📌 সূর্যের মহাজাগতিক ঝড় পৃথিবীতে আঘাত হলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাজ্যের মেট অফিস এই বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে
সকালবেলা অ্যালার্মের কর্কশ শব্দে ঘুম থেকে উঠলে দেখা যায়, কোনো সিগন্যাল নেই। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গায়েব, ইন্টারনেট কাজ করছে না। এমন অবস্থা হতে পারে মহাশূন্যের কোনো খামখেয়ালিপনা বা সূর্যের একটি ছোটখাটো ‘ঢেকুর’ তোলার ফলে। মহাকাশের আবহাওয়া আমাদের পৃথিবীর রোজকার জীবনযাত্রাকে কতটা নাকাল করে দিতে পারে, তা আমরা সাধারণ মানুষ খুব একটা বুঝতে না পারলেও বিজ্ঞানীরা ঠিকই ভয়ে তটস্থ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহাকাশের ঝড় পৃথিবীতে আঘাত হলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
- 📌 যুক্তরাজ্যের মেট অফিস ২৪ ঘণ্টা সূর্যের দিকে নজরদারি করে
- 📌 সৌরশিখা থেকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য নতুন স্মার্ট অ্যালার্ম সিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে
- 📌 ১৮৫৯ সালে ক্যারিংটন ইভেন্টের মতো ঝড় আধুনিক পৃথিবীতে আঘাত হলে সভ্যতার চাকা স্থবির হবে
📰 বিস্তারিত
লয়েডসের ২০২৫ সালের একটি হিসাব বলছে, বড়সড় কোনো মহাজাগতিক ঝড় যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে, তবে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পুরোপুরি হাওয়া হয়ে যাবে। এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ও ব্ল্যাকআউট থেকে আমাদের বাঁচাতে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর ‘মেট অফিস’ এক অভিনব ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের সদর দপ্তরের একটি বিশাল কন্ট্রোল রুমে একদল গবেষক দিনরাত ২৪ ঘণ্টা, বছরে ৩৬৫ দিন একদৃষ্টে বড় বড় স্ক্রিনে সূর্যের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন।
মেট অফিসের স্পেস ফোরকাস্টিং টিমের সদস্য রিচার্ড স্টোন বলেছেন, ‘সূর্যের পৃষ্ঠে ঘটা যেকোনো পরিবর্তন স্ক্যান করে পৃথিবীর মানুষকে আগেভাগে সতর্ক করাই তাদের মূল কাজ, যাতে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যায়।’ তবে মুশকিল হলো, তাদের এই পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি এখনো বেশ কাঁচা। সূর্য থেকে কোনো ঝড় পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে দেখলে বিজ্ঞানীরা হয়তো তিন দিন আগে তা টের পান। কিন্তু এরপর মহাকাশের ওই বিশাল শূন্যতায় সেই ঝড়ের আর কোনো হদিস মেলে না! একেবারে পৃথিবী থেকে দশ লাখ মাইল দূরে থাকা কোনো স্যাটেলাইটে এসে ধাক্কা খাওয়ার পর বিজ্ঞানীরা আবার এর অস্তিত্ব টের পান। এরপর তাদের হাতে সময় থাকে বড়জোর এক ঘণ্টা!
এই দুর্বলতা কাটাতেই যুক্তরাজ্যের অ্যাবেরিস্টউইথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিউ মরগানের নেতৃত্বে নর্থামব্রিয়া, ডারহাম এবং রিডিং ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক কোমর বেঁধে নেমেছেন। তাঁরা এমন এক স্মার্ট অ্যালার্ম সিস্টেম তৈরি করতে চাইছেন, যাতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানিগুলো বা বিমান সংস্থাগুলো আগেভাগেই সাবধানে থাকার সুযোগ পায়।
‘সূর্যের পৃষ্ঠে ঘটা যেকোনো পরিবর্তন স্ক্যান করে পৃথিবীর মানুষকে আগেভাগে সতর্ক করাই তাদের মূল কাজ, যাতে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা যায়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিচার্ড স্টোন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!