📌 বাংলাদেশে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের ভাষা বিকাশে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় অভিভাবকের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবকই সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় পাশে থাকেন
বাংলাদেশে ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের ভাষা বিকাশে স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবকই সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সবসময় পাশে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের এম.ফিল গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, স্ক্রিন ব্যবহারের সময়ের চেয়ে কনটেন্টের ধরন এবং শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা বিকাশে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫০ শিশুর মধ্যে ৮০ শতাংশই বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখে সময় কাটায়
- 📌 মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সবসময় পাশে থাকেন
- 📌 ৪০ শতাংশ শিশু দৈনিক ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা এবং ২০ শতাংশ চার ঘণ্টারও বেশি সময় স্ক্রিনে ব্যয় করে
- 📌 শিক্ষামূলক অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষা বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে
- 📌 ৬০ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুর শব্দভাণ্ডার কমে যাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের অধীনে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের ভাষা বিকাশে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় অভিভাবকের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫০ শিশুর মধ্যে ৮০ শতাংশই বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখে সময় কাটায়। অন্যদিকে, মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবক সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সবসময় পাশে থাকেন। গবেষক মো. জাহিদ হোসাইন খান বলেন, "ভাষা শেখার প্রধান শর্ত দ্বিমুখী কথোপকথন, আর স্ক্রিন সেই যোগাযোগকে একমুখী করে দেয়। অভিভাবক পাশে বসে কনটেন্ট নিয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বললে সেটি আর নিছক স্ক্রিন টাইম থাকে না, শেখার প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।"
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, ৪০ শতাংশ শিশু দৈনিক ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা এবং ২০ শতাংশ চার ঘণ্টারও বেশি সময় স্ক্রিনে ব্যয় করে। শিশুদের প্রধান মাধ্যম হিসেবে রয়েছে মোবাইল ফোন (৯০ শতাংশ), এরপর টেলিভিশন (৭০ শতাংশ) ও ট্যাব (৫০ শতাংশ)। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শিক্ষামূলক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাপ ব্যবহারকারী শিশুরা নতুন শব্দ পুনরাবৃত্তি করেছে এবং তাদের বাক্যগঠনে উন্নতি হয়েছে। বিপরীতে যারা কেবল কার্টুন বা ইউটিউব ভিডিও দেখেছে, তাদের কথা বলার প্রবণতা কমেছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ভাষাবিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ৬০ শতাংশ অভিভাবক স্বীকার করেন যে, যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে স্ক্রিন টাইম ভাষা শেখায় সহায়ক হতে পারে। গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ বলেন, "বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের সুস্থ বিকাশের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সমাজে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা ছিল না বললেই চলে। এই গবেষণা সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।"
"ভাষা শেখার প্রধান শর্ত দ্বিমুখী কথোপকথন, আর স্ক্রিন সেই যোগাযোগকে একমুখী করে দেয়। অভিভাবক পাশে বসে কনটেন্ট নিয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বললে সেটি আর নিছক স্ক্রিন টাইম থাকে না, শেখার প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ, মো. জাহিদ হোসাইন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতাংশ, ৫০ শিশু, ৪০ শতাংশ, ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!