📌 যুক্তরাজ্যের গবেষক ড. উইল টালেটের মতে, বায়ুদূষণ ও কৃত্রিম সুগন্ধের কারণে মানুষের ঘ্রাণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি ঘ্রাণশিক্ষা প্রবর্তনের দাবি তুলেছেন, যা শিশুদের সুস্থতা ও চারপাশের বুঝতে সাহায্য করবে। ঘ্রাণের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও স্মৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের ইতিহাসবিদ ড. উইল টালেটের গবেষণায় উঠে এসেছে, শিশুদের ঘ্রাণশক্তি বিকাশের জন্য বিশেষ শিক্ষা প্রবর্তনের দরকার। তিনি বলেছেন, বর্তমান বায়ুদূষণ ও কৃত্রিম সুগন্ধের কারণে মানুষের ঘ্রাণ চিনতে পারার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে চারপাশের প্রকৃত পরিবেশের বোঝাপড়া কমে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঘ্রাণশিক্ষা প্রবর্তনের দাবি: ড. টালেট প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘ্রাণ চিনতে শেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বাসায়ও এই অনুশীলন করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
- 📌 ঘ্রাণ ও মানসিক স্বাস্থ্য: গবেষণা থেকে জানা গেছে, ঘ্রাণশক্তি হারানোর কারণে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- 📌 ঘ্রাণের স্মৃতিগত ভূমিকা: মানুষ ঘ্রাণের মাধ্যমে পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে, কিন্তু ঘ্রাণ নিয়ে কথা বলার জন্য উপযুক্ত শব্দভান্ডার ও আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে।
- 📌 ঘ্রাণের বৈষম্য: টালেট উল্লেখ করেছেন, ঘ্রাণের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি হয়। যেমন, খাবারের গন্ধের কারণে জাতিগত বৈষম্য দেখা দিতে পারে।
- 📌 বই প্রকাশের খবর: ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে ড. টালেটের বই সিনিফ: আ হিস্টরি অব স্মেলস।
📰 বিস্তারিত
ড. উইল টালেটের মতে, বর্তমান যুগে মানুষের ঘ্রাণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বায়ুদূষণ, কৃত্রিম সুগন্ধ এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে আমরা প্রকৃত ঘ্রাণ পেতে পারছি না। তিনি বলেন, “আমাদের চারপাশের অনেক জিনিসের আসল ঘ্রাণ বদলে দেওয়া হয়। যেমন, গাড়ি, ঘরবাড়ি ইত্যাদিতে কৃত্রিম সুগন্ধ ব্যবহার করা হয়। ফলে আমরা প্রকৃত ঘ্রাণ চিনতে পারছি না।”
গবেষক বলেছেন, ঘ্রাণশিক্ষা শিশুদের সুস্থতা বাড়াতে পারে। ঘ্রাণের মাধ্যমে খাবার তাজা কিনা, নষ্ট হয়েছে কিনা তা বোঝা যায়। এছাড়াও, ঘ্রাণের মাধ্যমে আমরা নিজেদের এবং চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি। তিনি উদাহরণ দিয়েছেন, সোমেলিয়েররা ওয়াইন চিনতে ঘ্রাণের উপর নির্ভর করে। তাদের ঘ্রাণ বর্ণনা করার শব্দভান্ডার বৃদ্ধি পায়।
ড. টালেটের মতে, ঘ্রাণের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ঘ্রাণশক্তি হারানোর কারণে বিষণ্নতা, উদ্বেগসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, “মানুষ ঘ্রাণ নিয়ে কথা বলার সুযোগ দিলে তারা অনেক সময় পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু ঘ্রাণ নিয়ে কথা বলার জন্য উপযুক্ত শব্দ বা আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে।”
তিনি আরও বলেছেন, ঘ্রাণের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি হয়। যেমন, কোনো খাবারের গন্ধের কারণে বাড়ির মালিক নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে বাড়িভাড়া দিতে অস্বীকার করতে পারে। যুক্তরাজ্যে এমন একটি প্রস্তাবও উঠেছিল, যেখানে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষদের ‘অতিরিক্ত’ ঘ্রাণের জন্য অপরাধী বানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, “ঘ্রাণকে ভালো বা খারাপ মনে করার আগে আমাদের ভাবতে হবে, কেন আমরা সেটিকে এভাবে দেখছি?”
"আমাদের ঘ্রাণ-সংক্রান্ত পছন্দ ও ধারণা সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া দরকার। একই সঙ্গে অন্য মানুষের ঘ্রাণ পছন্দের প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য (ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. উইল টালেট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ (সেপ্টেম্বর মাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!