📌 সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে রাতের আকাশে দেখা মিলবে বেশ কয়েকটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। চাঁদের সঙ্গে প্লিয়াডিস তারকাবাহিনীর মিলন, এপসিলন পার্সিড উল্কাবৃষ্টি, শুক্র গ্রহের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা এবং হারভেস্ট মুনসহ একাধিক দৃশ্যপট উপভোগ করতে পারবেন জ্যোতির্বিদ্যার প্রেমিরা।
সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে রাতের আকাশে বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে পারবেন মহাকাশপ্রেমীরা। আগস্টের পার্সিড উল্কাবৃষ্টি ও দুটি গ্রহণের পরও থেমে থাকেনি মহাজাগতিক নাটক। আগামী মাসের বিভিন্ন তারিখে চাঁদের সঙ্গে তারকাবাহিনীর মিলন, উল্কাবৃষ্টি, গ্রহের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা এবং পূর্ণিমার বিশেষ রূপ দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর চাঁদের সঙ্গে দেখা মিলবে প্লিয়াডিস তারকাবাহিনীর, দূরত্ব থাকবে মাত্র ১.১ ডিগ্রি
- 📌 ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দেখা যাবে এপসিলন পার্সিড উল্কাবৃষ্টি, ঘণ্টায় গড়ে আটটি উল্কা দৃশ্যমান হবে
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর শুক্র গ্রহের উজ্জ্বলতা পৌঁছাবে মাইনাস ৪.৮ ম্যাগনিচিউডে
- 📌 ২৩ সেপ্টেম্বর হবে সূর্যের বিষুবরেখা অতিক্রমণ, দিন ও রাত সমান হবে
- 📌 ২৬ সেপ্টেম্বর নেপচুন প্রতিযোগ অবস্থানে থাকবে, টেলিস্কোপের সাহায্যে দেখা যাবে
- 📌 একই দিনে দেখা মিলবে হারভেস্ট মুন নামে পরিচিত পূর্ণিমা
📰 বিস্তারিত
আগস্টের শেষে পার্সিড উল্কাবৃষ্টি ও দুটি গ্রহণের পর মহাজাগতিক ঘটনার পালা থেমে থাকেনি। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে রাতের আকাশে একাধিক বিরল দৃশ্যের অবতারণা হতে যাচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই মাসের বিভিন্ন তারিখে মহাজাগতিক ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন সাধারণ মানুষও।
৩ সেপ্টেম্বর রাতের আকাশে চাঁদের সঙ্গে দেখা মিলবে প্লিয়াডিস তারকাবাহিনীর। এই তারকাবাহিনীকে অনেকেই সেভেন সিস্টার্স বা কৃত্তিকা নামে চেনেন। মূলত একই ধূলিমেঘ থেকে জন্ম নেওয়া শত শত তারার সমষ্টি হলো প্লিয়াডিস। মহাকর্ষ বলের কারণে এরা একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। চাঁদ ও প্লিয়াডিসের দূরত্ব থাকবে মাত্র ১.১ ডিগ্রি। খালি চোখেই ছয় থেকে সাতটি তারা দেখা যাবে। চাঁদের আলো কম থাকায় এই তারাগুলো আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দেখা যাবে এপসিলন পার্সিড উল্কাবৃষ্টি। ঘণ্টায় গড়ে আটটি উল্কা দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। অমাবস্যার দুই দিন পর হওয়ায় আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকার। ফলে শহর থেকে দূরে অন্ধকার এলাকায় গেলে এই মহাজাগতিক দৃশ্য আরও উপভোগ্য হবে।
২২ সেপ্টেম্বর শুক্র গ্রহের উজ্জ্বলতা পৌঁছাবে মাইনাস ৪.৮ ম্যাগনিচিউডে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাগনিচিউড স্কেলে সংখ্যা যত কম হয়, বস্তুটি তত বেশি উজ্জ্বল দেখা যায়। রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা লুব্ধকের ম্যাগনিচিউড মাইনাস ১.৪৬। পূর্ণিমার চাঁদের ম্যাগনিচিউড থাকে মাইনাস ১২.৭। সেখানে শুক্র গ্রহের উজ্জ্বলতা হবে ৪.৮। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে শুক্র গ্রহকে অত্যন্ত ঝলমলে দেখা যাবে।
২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য বিষুবরেখা অতিক্রম করবে। ফলে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে যাবে। এই দিন থেকে উত্তর গোলার্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে শরতের শুরু হবে।
২৬ সেপ্টেম্বর নেপচুন গ্রহ প্রতিযোগ অবস্থানে থাকবে। অর্থাৎ সূর্য ও নেপচুনের মাঝখানে থাকবে পৃথিবী। ফলে গ্রহটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে। পুরো রাত ধরেই আকাশে থাকবে নেপচুন। তবে খালি চোখে একে দেখা যাবে না। টেলিস্কোপের সাহায্যে মীন রাশির তারামণ্ডলীর মধ্যে একটি নীলাভ চাকতির মতো দেখা যাবে এই গ্রহটি।
একই দিনে দেখা মিলবে হারভেস্ট মুন নামে পরিচিত পূর্ণিমা। প্রাচীনকালে কৃষকেরা বৈদ্যুতিক আলোর অভাবে এই উজ্জ্বল চাঁদের আলোয় রাত জেগে ফসল কাটতেন। ফলে এর নাম হয়েছে হারভেস্ট মুন।
"রাতের আকাশ যেন এক বিশাল ক্যানভাস। সেখানে প্রতিদিন মহাজাগতিক নাটকের কোনো না কোনো প্রদর্শনী চলতেই থাকে!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১.১ (ডিগ্রি), ৮ (উল্কা), ৪.৮ (ম্যাগনিচিউড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!