📌 খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় বসবাসকারী সুরঞ্জন রাপ্তান ২১ বছর ধরে কবিরাজি করছেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলা এবং আধুনিক চিকিৎসার প্রসারের কারণে সুন্দরবনের ভেষজ গাছ হারিয়ে যাচ্ছে এবং কবিরাজি বিদ্যা বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে দেশজুড়ে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের কারণে গ্রামীণ এলাকায় কবিরাজদের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে
খুলনার কয়রা উপজেলার লোকালয় থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের সীমান্তে বসবাসকারী সুরঞ্জন রাপ্তান ২১ বছর ধরে কবিরাজি বিদ্যা প্রচার করছেন। তিনি বলছেন, সুন্দরবনের ভেষজ গাছের বিলুপ্তি এবং আধুনিক চিকিৎসার প্রসারের কারণে বংশানুক্রমিক কবিরাজি বিদ্যা হারিয়ে যাচ্ছে। সুরঞ্জন জানান, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র পর থেকে সুন্দরবনের চেহারা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ওষুধি গাছগুলো বুনো এলাকায় বিরল হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় বসবাসকারী সুরঞ্জন রাপ্তান ২১ বছর ধরে কবিরাজি করছেন এবং তাঁর বাবা-দাদা থেকে এই বিদ্যা পেয়েছেন।
- 📌 ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র পর থেকে সুন্দরবনের ওষুধি গাছগুলো বিলুপ্তির পথে।
- 📌 বর্তমানে দেশজুড়ে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের কারণে গ্রামীণ এলাকায় কবিরাজদের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
- 📌 সুরঞ্জন বলেন, বন থেকে ওষুধি গাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণে কবিরাজি বিদ্যা বিলুপ্তির পথে।
- 📌 গ্রামে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং দারিদ্র্যের কারণে কবিরাজদের কাছে আসা রোগীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
সুরঞ্জন রাপ্তান শাকবাড়িয়া নদীর তীরে বসবাস করেন। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ির উঠান থেকে নদী পার হয়ে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে বিস্তৃত সুন্দরবন। এই বন তাঁর জীবনের বিশাল ওষুধ ভান্ডার হিসেবে কাজ করে আসছে। সুরঞ্জন জানান, তিনি খালি পায়ে হাঁটেন এবং মাটির স্পর্শ পানির মতোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি বলেন, ‘খালি পায়ে হাঁটলে মাটির স্পর্শ পাওয়া যায় এবং নিঃশব্দে চলাফেরা করা যায়; জুতা পরলে কাদায় পা পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে।’
সুরঞ্জন বলেন, ‘আইলা’র আগে বন এত ঘন ছিল যে ভেতরে সূর্যের আলো পৌঁছাত না। কিন্তু তারপর থেকে বন পাতলা হতে শুরু করে। এখন বনের ভেতরটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। ২০১৫ বা ২০১৬ সালের পর থেকে পরিবর্তনটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেসব জায়গায় আগে ঘন ছায়া থাকত, সেখানে রোদ পড়তে শুরু করে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে চেনা ওষুধি গাছগুলো বন থেকে একে একে উধাও হতে শুরু করে।’
সুরঞ্জন জানান, তাঁর বাড়ির উঠানে প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে বহু রোগী আসতেন। জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া বা শরীর ব্যথার চিকিৎসার জন্য তাঁর শরণাপন্ন হতেন সবাই। কিন্তু গত এক দশকে এই ভিড় অনেকটাই পাতলা হয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘একদিকে বন থেকে ওষুধি গাছ হারিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে গ্রামে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক কাজ করছে, যার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের অনেকে হাতের নাগালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই সহজে ওষুধ কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে কবিরাজদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’
"এই গাছটার নামানুসারেই এই বনের নাম হয়েছিল সুন্দরবন। কিন্তু এখন এই সুন্দরী গাছ বুনো এলাকায় বিরল হয়ে উঠেছে। আজ এখানে এটা দেখতে পাওয়া আমাদের ভাগ্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা, সুন্দরবনের সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুরঞ্জন রাপ্তান (২১ বছর ধরে কবিরাজি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ বছর (কবিরাজি অভিজ্ঞতা), ১৪ হাজার (কমিউনিটি ক্লিনিক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!