📌 জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পুন্ডুরিয়া গ্রামে বাংলাদেশের দুর্লভ শামুকখোল পাখির বিশাল বাসস্থান আবিষ্কৃত হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার পাখি একই এলাকায় বসবাস করে এবং তাদের জীবনচক্র, খাদ্যাভ্যাস ও বাসা নির্মাণের বিস্তারিত জানা গেছে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পুন্ডুরিয়া গ্রামে বাংলাদেশের এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য উপস্থাপন করছে প্রায় ২০ হাজার শামুকখোল পাখির বিশাল বাসস্থান। এই দুর্লভ পাখি, যা সারসজাতীয় হলেও বকের চেয়ে বেশ বড় আকারের, বছরের অধিকাংশ সময় একই এলাকায় বসবাস করে এবং তাদের জীবনচক্র প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পুন্ডুরিয়া গ্রামে প্রায় ২০ হাজার শামুকখোল পাখির বাসস্থান — বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম শামুকখোল কলোনি
- 📌 পাখির দৈর্ঘ্য ৫০ থেকে ৮০ সেন্টিমিটার, ঠোঁটের দৈর্ঘ্য ১৪ সেন্টিমিটার — শামুকের খোলস ভেঙে খাওয়া থেকে নামকরণ
- 📌 বাসা নির্মাণে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগে — স্ত্রী ও পুরুষ পাখি মিলে বড় বড় গাছের ডালে বাসা তৈরি করে
- 📌 জুলাই-আগস্ট মাসে ডিম পাড়ে — ডিম ফোটার পর ৩০ থেকে ৩৫ দিনে ছানারা উড়তে শেখে
- 📌 দলবদ্ধভাবে বসবাস — খাবারের সংকটে অন্য এলাকায় চলে যায়, কিন্তু অনুকূল পরিবেশে একই জায়গায় বাস করে
📰 বিস্তারিত
শামুকখোল পাখি বাংলাদেশের বড় জলচর পাখিদের মধ্যে অন্যতম। এরা সাধারণত নদী, হাওর-বাঁওড়, মিঠাপানির জলাশয়, হ্রদ, ধানক্ষেত ও উপকূলীয় বনে দেখা যায়। এই পাখির গায়ের রং ধূসর-সাদা, লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো। প্রতিটি পাখির দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। শামুকখোলের অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর লম্বা ও ভারী ঠোঁট, যা প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার লম্বা। এই ঠোঁট দিয়ে পাখিগুলো শামুকের খোলস ভেঙে ভেতরের অংশ খেয়ে থাকে, যার কারণে তাদের নামকরণ হয়েছে শামুকখোল। তবে শামুক ছাড়াও মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ ও ছোট প্রাণীও তাদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে।
পুন্ডুরিয়া গ্রামে শামুকখোল পাখিগুলো বড় বড় গাছে বিশাল কলোনি গড়ে বসবাস করে। বড় আম, শিমুল, বট ও অশ্বত্থগাছের উঁচু ডালে তৈরি হয় তাদের বাসা। কোনো কোনো গাছে ২০ থেকে ৩০টি বাসা দেখা যায়, আবার বড় গাছে শতাধিক বাসাও থাকে। গাছের শুকনো ডাল, কঞ্চি ও লতাপাতা দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ পাখি মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনে বাসা তৈরি করে। একটি বাসার দৈর্ঘ্য পাঁচ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। জুলাই-আগস্ট মাসে স্ত্রী পাখি সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। ডিম মুরগির ডিমের চেয়ে বড়। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় পাখি মিলে ডিমে তা দেয়। প্রায় ২৫ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয় এবং ৩০ থেকে ৩৫ দিন বয়সে ছানারা উড়তে শেখে।
শামুকখোল পাখিরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। একেকটি ঝাঁকে ৩০ থেকে ৫০টি পাখি থাকতে দেখা যায়। বাসা বাঁধার মৌসুমে তারা পানকৌড়ি ও বকের সঙ্গেও বড় কলোনি গড়ে তোলে। দলবদ্ধভাবে থাকার অন্যতম কারণ হলো ছানাদের নিরাপত্তা। চিল, বাজপাখি, কাক কিংবা কোনো মানুষ ছানাদের ক্ষতি করতে এলে ঝাঁকবেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাখিগুলো। স্থানীয়দের মতে, খাবারের সংকট দেখা দিলে কখনো কখনো তারা অন্য এলাকায় চলে যায়। তবে অনুকূল পরিবেশ থাকলে বছরের পর বছর একই এলাকায় বাস করে।
"পুন্ডুরিয়া গ্রামের এই বিশাল শামুকখোলের আবাস প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পুন্ডুরিয়া গ্রাম, আক্কেলপুর উপজেলা, জয়পুরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শামুকখোল পাখি (স্ত্রী ও পুরুষ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার পাখি, ৫০-৮০ সেমি দৈর্ঘ্য, ১৪ সেমি ঠোঁট, ১০-১২ দিন বাসা নির্মাণ, ৩০-৫০ পাখি ঝাঁকে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!