📌 বিদায় হজ শেষে মদিনায় ফিরে আসার পর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ দিনগুলোতে বিদায়ী সুরের সাথে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের বিধান নাজিল হয়। ১১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়ালে ফজরের নামাজের সময় তাঁর শেষ আলোকদ্যুতি দেখা যায়
বিদায় হজের পর মদিনায় ফিরে আসার পর থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ দিনগুলোতে বিদায়ী সুরের সাথে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের বিধান নাজিল হয়। ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম’ (সুরা মায়িদা: ৩) এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর থেকে মহানবী (সা.)-এর আচরণে বিদায়ের করুণ সুর ফুটে উঠতে থাকে। একাদশ হিজরির ২৮ সফর (সোমবার) রাসুলুল্লাহ (সা.) উহুদের প্রান্তরে শহীদ সাহাবীদের জন্য আকুল প্রার্থনা করেন, যেন দূর ভ্রমণের আগে প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১১ হিজরির ২৮ সফর সোমবার রাসুলুল্লাহ (সা.) উহুদে শহীদ সাহাবীদের জন্য প্রার্থনা করেন এবং মসজিদে ফিরে বলেন, ‘কাউসারের কিনারে আবার তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে’।
- 📌 ২৯ সফর রাতে তিনি ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানে সমাহিত মুমিনদের জন্য ক্ষমার দোয়া করেন এবং ঘরে ফিরে তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বর শুরু হয়।
- 📌 আয়েশা (রা.)-এর ঘরে স্থানান্তরিত হওয়ার পর তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী প্রেরণের নির্দেশ দেন।
- 📌 ১ রবিউল আউয়ালে তিনি নিজ হাতে উসামার হাতে পতাকা তুলে দেন এবং জুরফে শিবির স্থাপনের নির্দেশ দেন।
- 📌 মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে তিনি মসজিদে নববির মিম্বরে দাঁড়িয়ে শেষ ভাষণ দেন এবং আনসারদের প্রতি বিশেষ ওসিয়ত করেন।
- 📌 মৃত্যুর এক দিন আগে তিনি সাতটি দিনার সদকা করে দেন, দাসদের মুক্ত করেন এবং নিজের অস্ত্রসমূহ মুসলমানদের হিবা করেন।
- 📌 ১১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার ফজরের নামাজের সময় তিনি আয়েশা (রা.)-এর ঘরের পর্দা সামান্য সরিয়ে নামাজরত সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসেন, যা তাঁর শেষ আলোকদ্যুতি হিসেবে পরিচিত।
📰 বিস্তারিত
১১ হিজরির ২৮ সফর সোমবার রাসুলুল্লাহ (সা.) উহুদে শহীদ সাহাবীদের জন্য প্রার্থনা করেন। সেখান থেকে ফিরে মসজিদে ফিরে তিনি সাহাবিদের বলেন, ‘কাউসারের কিনারে আবার তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে’। পরদিন ২৯ সফর রাতে তিনি আবু মুওয়াইবাহ (রা.)-কে নিয়ে ‘জান্নাতুল বাকি’ কবরস্থানে যান এবং সমাহিত মুমিনদের জন্য ক্ষমার দোয়া করেন। সেখান থেকে ঘরে ফিরে তিনি তীব্র মাথাব্যথা ও জ্বর অনুভব করেন। আয়েশা (রা.) মাথার যন্ত্রণার কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমার কষ্ট আরও বহুগুণ বেশি’।
শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও রাসুলুল্লাহ (সা.) রোমানদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী প্রেরণের নির্দেশ দেন। তিনি উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-কে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং নিজ হাতে পতাকা তুলে দেন। ১ রবিউল আউয়ালে তিনি জুরফে শিবির স্থাপনের নির্দেশ দেন। অসুস্থতার কারণে যাত্রা কিছুটা বিলম্বিত হলেও তিনি সাহাবিদের প্রতি নির্দেশ দেন, ‘আগামীকাল আমি কোথায় থাকব?’
মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে তিনি মাথায় পট্টি বেঁধে মসজিদে নববির মিম্বরে দাঁড়িয়ে শেষ ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমি কারও পিঠে আঘাত করে থাকি, তবে এসে আমার পিঠে আঘাত করে প্রতিশোধ নাও। যদি কাউকে অপমান করে থাকি, তবে সে এসে আমাকে অপমান করো। পাওনা থাকলে চেয়ে নাও’। তিনি আনসারদের প্রতি বিশেষ ওসিয়ত করেন, ‘আনসাররা আমার অন্তর ও কলিজা। তোমরা তাদের সৎকাজগুলোকে গ্রহণ করবে এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেবে’।
মৃত্যুর এক দিন আগে তিনি সাতটি দিনার সদকা করে দেন, দাসদের মুক্ত করেন এবং নিজের ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ মুসলমানদের হিবা করেন। ১১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার ফজরের নামাজের সময় তিনি আয়েশা (রা.)-এর ঘরের পর্দা সামান্য সরিয়ে নামাজরত সাহাবিদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসেন। সাহাবিরা ভেবেছিলেন তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন, কিন্তু তিনি হাসিমুখে হাত ইশারায় তাঁদের নামাজ সম্পন্ন করতে বলেন। এটিই ছিল তাঁর শেষ আলোকদ্যুতি।
"যদি আমি কারও পিঠে আঘাত করে থাকি, তবে এসে আমার পিঠে আঘাত করে প্রতিশোধ নাও। যদি কাউকে অপমান করে থাকি, তবে সে এসে আমাকে অপমান করো। পাওনা থাকলে চেয়ে নাও।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মদিনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাসুলুল্লাহ (সা.), আয়েশা (রা.), উসামা ইবনে জায়েদ (রা.), আবু মুওয়াইবাহ (রা.), ফাতেমা (রা.)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল, ২৮ সফর, ২৯ সফর, ১ রবিউল আউয়াল, ১৭ ওয়াক্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!