📌 গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের বেসামরিক গণহত্যার পেছনে গোপন সামরিক ব্যবস্থা ছিল 'শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার' জন্য। তথ্যচিত্র 'NAZA'-এ ২৪ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা এসব গোপন পদ্ধতি স্বীকার করেছেন, যার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার, ফোন হ্যাকিং ও পরিবারের সদস্যদেরও লক্ষ্য করা ছিল। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটি দর্শকদের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে
গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের বেসামরিক গণহত্যার পেছনে গোপন সামরিক ব্যবস্থা ছিল 'শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার' জন্য। তথ্যচিত্র 'NAZA'-এ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৪ জন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হামাসের নিচু পর্যায়ের সদস্যদের শনাক্ত করা হতো এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও লক্ষ্য করা হতো। তথ্যচিত্রটি ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হয়েছিল এবং দর্শকদের ২৫ মিনিট ধরে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী 'শান্তি ব্যর্থ করার' জন্য বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে হত্যা চালিয়েছিল — এতে পুরুষ, নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- 📌 তথ্যচিত্র 'NAZA'-এ ২৪ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা স্বীকার করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা হতো এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা হতো।
- 📌 তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে — তাদের কণ্ঠ ও চেহারা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়েছে।
- 📌 তথ্যচিত্র নির্মাণে তিন বছর সময় লেগেছে এবং তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন যে, তাদের মিশন ছিল 'শান্তিকে ব্যর্থ করে দেওয়া' এবং এজন্য বেসামরিক লোকদের হত্যা করা হতো।
- 📌 তথ্যচিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গোপন ব্যবস্থাগুলো নিয়ে চলচ্চিত্রটি তৈরি করা তাদের দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের বেসামরিক গণহত্যার পেছনে গোপন সামরিক ব্যবস্থা ছিল 'শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার' জন্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপকভাবে হত্যায় ব্যবহৃত গোপন সামরিক ব্যবস্থাগুলো নিয়ে মুখ খুলেছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৪ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য। তথ্যচিত্র 'NAZA' নামক এই চলচ্চিত্রে তাঁরা এসব গোপন ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন। 'NAZA' শব্দটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার ইতালির ভেনিসে হয়েছিল এবং দর্শকদের ২৫ মিনিট ধরে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে। তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর। তিন বছর ধরে গোপনে তথ্যচিত্রটির শুটিং করা হয়েছে। তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে — তাদের কণ্ঠ ও চেহারা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন করা হয়েছে। তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত কিছু গোপন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে হামাসের নিচু পর্যায়ের সদস্যদের শনাক্ত করা হতো। এরপর রাতে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হতো। এসব হামলায় ওই ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও মারা যাবেন, তা জানা থাকা সত্ত্বেও হামলা চালানো হতো। তথ্যচিত্রে আরও দেখানো হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কীভাবে ফোনে হ্যাক করত। লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে হত্যার ঠিক আগে যে কথোপকথন করতেন, সেগুলোও সামরিক বাহিনী শুনত বলে তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে।
"তাঁদের কেউ অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন, কেউ করেননি। কেউ উদাসীনতা থেকে কথা বলেছেন, আবার কেউ গর্বের সঙ্গে কথা বলেছেন।"
তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া অনেকেই একটি গোপন গোয়েন্দা ইউনিটে কাজ করতেন এবং সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে রিপোর্ট করতেন। তাঁদের একজন জানান, তাঁদের মিশন ছিল যেকোনো মূল্যে 'শান্তিকে ব্যর্থ করে দেওয়া' এবং এ কারণে ব্যাপকভাবে বেসামরিক লোকদের হত্যা করা হতো।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব, ইতালি; গাজা, ফিলিস্তিন; তেল আবিব, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউভাল আব্রাহাম, র্যাচেল সোর, ইসরায়েলি ২৪ জন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ জন কর্মকর্তা, ২৫ মিনিট স্ট্যান্ডিং ওভেশন, ৩ বছর চলচ্চিত্র নির্মাণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!