📌 রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনা বউ পাখির দুর্লভ দেখা। বিজ্ঞানী পাখি বিশেষজ্ঞ পুরুষ ও স্ত্রী পাখির বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য ও প্রজনন প্রক্রিয়া বিশদে বর্ণনা করেছেন
২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল রাজশাহী শহরের পবা উপজেলার বায়া গ্রামে দুধরাজের ছবি তোলার সময় একটি ফলদ গাছে লাফালাফি করতে থাকা সোনালি-হলুদ পাখির সন্ধান পেয়েছিলেন পাখি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনাম আমিনুর রহমান। সেই পাখিটি ছিলো বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি সোনা বউ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus kundoo।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ উদ্যানে প্রথম সোনা বউ পাখির দেখা পেয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ।
- 📌 ২০১৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইং এলাকায় পুরুষ ও স্ত্রী পাখির সাথে ছানারও দেখা পেলেন তিনি।
- 📌 পুরুষ পাখির পালক সোনালি-হলুদ ও চোখে কাজলটানা, স্ত্রী পাখির দেহের ওপর জলপাই-হলুদাভ ও ডানা-লেজ কালচে।
- 📌 সোনা বউ পাখির দৈর্ঘ্য ২৩-২৬ সেন্টিমিটার ও ওজন ৬৫-৭৫ গ্রাম।
- 📌 প্রজননকালে মাটি থেকে ৬-৩০ ফুট উচ্চতায় ঝুলন্ত বাসা বানায়, যেখানে ২-৩টি ডিম পাড়ে।
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানী পাখি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনাম আমিনুর রহমানের মতে, সোনা বউ পাখি বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশ ও মধ্য এশিয়ায় বিস্তৃত। এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus kundoo। পাখিটি শালিক আকারের এবং বেশ লাজুক প্রকৃতির। গাছগাছড়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ উদ্যানে প্রথম সোনা বউ পাখির দেখা পেলেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইং এলাকায় গিয়ে সাঁওতালদের আবাসস্থলে পুরুষ পাখির সাথে স্ত্রী ও ছানারও দেখা পেলেন। বাবুডাইং এলাকাটি উঁচু-নিচু ও টিলাময়, যেখানে একটি চমৎকার সর্পিল খাঁড়ি রয়েছে।
বিজ্ঞানী বলেন, সোনা বউ পাখির পুরুষ ও স্ত্রী পাখির চেহারায় পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ পাখির পালক উজ্জ্বল সোনালি-হলুদ এবং চোখে কাজলটানা। ডানায় অল্প হলদে দাগছোপ এবং লেজের বাইরের অংশ সম্পূর্ণ হলুদ। অন্যদিকে স্ত্রী পাখির দেহের ওপর জলপাই-হলুদাভ, ডানা-লেজ কালচে ও জলপাই রঙা। দেহের নিচটা ফ্যাকাশে ও তাতে গাঢ় দাগ থাকে।
সোনা বউ পাখির দৈর্ঘ্য ২৩-২৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৬৫-৭৫ গ্রাম। প্রজননকাল মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত। এই সময় মাটি থেকে ৬-৩০ ফুটের মধ্যে দো-ডালার মাঝে ঝুলন্ত বাটির মতো বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ২-৩টি, যা কালচে বা লালচে-বাদামি ছিট-ছোপসহ সাদা বা গোলাপি-সাদা রঙের হয়। ডিম ফোটে ১৪-১৮ দিনে এবং বাবা-মা মিলেমিশে ডিমে তা দেয় ও ছানাদের খাওয়ায়। ছানারা ১৪-২০ দিনে উড়তে শেখে ও বাসা ছাড়ে।
"আমি প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ উদ্যানে পাখিটিকে দেখেছিলাম। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুরুষ পাখির সাথে স্ত্রী ও ছানার দেখা পেলাম। সোনা বউ পাখির প্রজনন প্রক্রিয়া ও বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যগুলো এখনো অনেকের কাছে অজানা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী (পবা উপজেলা, বায়া গ্রাম), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (বাবুডাইং), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ উদ্যান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আনাম আমিনুর রহমান (পাখি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩-২৬ সেন্টিমিটার (দৈর্ঘ্য), ৬৫-৭৫ গ্রাম (ওজন), ৬-৩০ ফুট (বাসা উচ্চতা), ২-৩টি (ডিম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!