📌 বিজ্ঞানীরা ১০০ বছরের পর অ্যান্টার্কটিকা থেকে ১২০০ মাইল দূরে নতুন একটি পেঙ্গুইন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। গবেষণা থেকে জানা যায়, ‘জেন্টু পেঙ্গুইন’ আসলে চারটি আলাদা প্রজাতির সমষ্টি। নতুন প্রজাতির নাম ‘পাইগোসেলিস কারগুয়েলেনসিস’ এবং এর বাসস্থান ভারত মহাসাগরের কারগুয়েলেন দ্বীপপুঞ্জে।
বিজ্ঞানীরা ১০০ বছরের পর অ্যান্টার্কটিকা থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল দূরে নতুন একটি পেঙ্গুইন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। গবেষণাপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এতদিন আমরা যাকে ‘জেন্টু পেঙ্গুইন’ হিসেবে চিনতাম, তা আসলে চারটি আলাদা প্রজাতির সমষ্টি। নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘পাইগোসেলিস কারগুয়েলেনসিস’ (Pygoscelis kerguelensis)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজ্ঞানীরা ১০০ বছরের পর নতুন পেঙ্গুইন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন
- 📌 ‘জেন্টু পেঙ্গুইন’ আসলে চারটি আলাদা প্রজাতির সমষ্টি
- 📌 নতুন প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম ‘পাইগোসেলিস কারগুয়েলেনসিস’
- 📌 নতুন প্রজাতির বাসস্থান ভারত মহাসাগরের কারগুয়েলেন দ্বীপপুঞ্জে
- 📌 ১৯২১ সালের পর এটিই প্রথম নতুন পেঙ্গুইন প্রজাতির আবিষ্কার
- 📌 দক্ষিণ-পূর্ব জেন্টু পেঙ্গুইনদের শরীরে গভীর পানিতে ডুব দেওয়ার জন্য বিশেষ জিন রয়েছে
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পেঙ্গুইনদের বাসস্থান বিপদগ্রস্ত
📰 বিস্তারিত
চিলি ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলের বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কার করেছেন। গবেষণাপত্র ‘কমিউনিকেশনস বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, জেন্টু পেঙ্গুইনের চারটি আলাদা বংশ রয়েছে: উত্তর, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব। উত্তর জেন্টু পেঙ্গুইনদের বাস ফকল্যান্ড ও মার্টিলো দ্বীপপুঞ্জে, আর পূর্ব জেন্টু পেঙ্গুইনদের দেখা মেলে ক্রোজেট, মেরিয়ন ও ম্যাককুয়ারি দ্বীপপুঞ্জে।
গবেষণা থেকে জানা যায়, দক্ষিণ জেন্টু পেঙ্গুইনের শরীরে অতিরিক্ত ঠান্ডা এলাকায় থাকার জন্য বিশেষ জিন রয়েছে যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পূর্ব জেন্টু পেঙ্গুইনদের শরীরে এমন জিন রয়েছে যা তাদের গভীর পানিতে দীর্ঘক্ষণ ডুব দেওয়ার ক্ষমতা দেয় এবং শক্তি সাশ্রয় করে খাবার হজম করতে সাহায্য করে।
গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও চিলির আন্দ্রেস বেলো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জুলিয়ানা ভিয়ানা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও পূর্ব জেন্টু পেঙ্গুইনদের বাসস্থান বিপদগ্রস্ত। তবে দক্ষিণ জেন্টু পেঙ্গুইনরা সম্ভবত নিজেদের ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। অ্যান্টার্কটিকায় বসবাসকারী চার প্রজাতির মধ্যে কেবল দক্ষিণ জেন্টু পেঙ্গুইনই সেখানে টিকে আছে।
বিবিসি ওয়াইল্ডলাইফের প্রতিবেদন অনুসারে, পেঙ্গুইনের নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। তবে এক শতাব্দীর মধ্যে এবারই প্রথম। এর আগে ১৯২১ সালে শেষবারের মতো নর্দার্ন রকহপার পেঙ্গুইন নামের একটি প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছিল।
"অ্যান্টার্কটিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যান্য জাতের পেঙ্গুইনরা বিপদে রয়েছে। তবে সাব অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে জেন্টু পেঙ্গুইনদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের পানি গরম হওয়ার কারণে অ্যান্টার্কটিকার বাইরের এলাকার পেঙ্গুইনরা তাদের থাকার জায়গা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কারগুয়েলেন দ্বীপপুঞ্জ, ভারত মহাসাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা (চিলি ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০ বছর, ১ হাজার ২০০ মাইল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!