📌 ভোলার দৌলতখানার মদনপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর চরে বাঁধ নির্মাণকালে প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে কৃষকদের ওপর মারধর হয়। আহত হন তিনজন শ্রমিক-চালক। কৃষকদের অভিযোগ, ভেকু নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা দাবির মাধ্যমে তাদের চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে
ভোলার দৌলতখানার মদনপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর চরে বাঁধ নির্মাণের সময় কৃষকদের ওপর মারধর হয়। এই হামলায় তিনজন শ্রমিক ও খননযন্ত্রচালক আহত হন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদনপুর চরে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে শাহিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি আক্কাস আলী, তাঁর সহকারী মো. হাসান ও শ্রমিক মো. কামালকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। আহত তিনজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মদনপুর ইউনিয়নের মাঝের চরে বাঁধ নির্মাণকালে কৃষকদের ওপর মারধর, তিনজন আহত
- 📌 শাহিনের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ভেকু চালক ও শ্রমিকদের লাঠি দিয়ে মারধর করেন
- 📌 কৃষকদের অভিযোগ, ভেকু নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা দাবির মাধ্যমে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে
- 📌 শাহিন দাবি করেন, ঘটনাটি জমি দখল বা চাষাবাদে বাধা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়
- 📌 দৌলতখান থানার ওসি ফকরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
মদনপুর চর, বৈরাগীর চর ও কাচিয়ার চরে প্রতিবছর রবি মৌসুমে দুই থেকে আড়াই হাজার একর জমিতে ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা, শসাসহ বিভিন্ন আগাম সবজির চাষ হয়। তবে চাষাবাদের শুরু থেকেই সেখানে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। বাঁধ নির্মাণে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভেকু ব্যবহার করতে চাপ দেওয়া হয়। কৃষকের নিজস্ব যন্ত্র থাকলেও তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। সার, কীটনাশক ও কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধার অভিযোগ আছে। এমনকি নিজেদের নৌকা ব্যবহার করতেও বাধা দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফারুকের জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চারপাশে ভেকু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছিল। সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহিনের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে কোনো কথা না বলেই শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান। লাঠি দিয়ে তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। খবর পেয়ে প্রকল্প–সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা চলে যায়।
কৃষকদের ভাষ্য, ভেকুর ভাড়া স্থানীয়ভাবে ঘণ্টায় প্রায় তিন হাজার টাকা জানিয়ে তারা বলেন, শাহিন তাঁর ভেকু ব্যবহারের জন্য ঘণ্টায় চার হাজার টাকা দাবি করেন। তাঁর ভেকু ব্যবহার না করলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। তবে চাঁদা দাবির কোনো লিখিত বা রেকর্ডভিত্তিক প্রমাণ তাদের কাছে নেই। কৃষকদের অভিযোগ, ভেকুটি ভোলা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। বিষয়টি ভেকুর মালিক কাইদ মিয়া, হেলাল মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।
শাহিন ঘটনাটিকে জমি দখল বা চাষাবাদে বাধা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, রাতে একটি ভেকুকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি থেকে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না ও কাউকে মারধর করেননি। চাষাবাদেও বাধা দেননি।
"অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।"
— দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকরুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মদনপুর ইউনিয়ন, দৌলতখান, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তফার ছেলে শাহিন, আক্কাস আলী, মো. হাসান, মো. কামাল, ফকরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ হাজার টাকা (চাঁদা দাবি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!