📌 করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অক্সিজেন সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে। দরকারের সময় ৭০ শতাংশ মানুষ অক্সিজেন পাচ্ছেন না, যা জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করছে। আইইউবির নীতি সংলাপে উঠে এসেছে চিকিৎসা খাতের অপচয় ও দুর্নীতির চিত্র
করোনা মহামারির সময় অক্সিজেনের অভাবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যর্থতা নতুন করে সামনে এসেছে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) আয়োজিত এক নীতি সংলাপে প্রকাশিত হয়েছে যে, দরকারের সময় ৭০ শতাংশ মানুষ অক্সিজেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। এই তথ্য দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গভীর সংকটকে তুলে ধরে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 করোনা মহামারির সময় দৈনিক সর্বোচ্চ ৪০০ টন মেডিক্যাল অক্সিজেনের চাহিদা থাকলেও সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত ৯৯টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের অধিকাংশই এখন অকর্মণ্য
- 📌 বাংলাদেশের ১০১টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে মাত্র ৩৪টি (৩৩.৭%) সচল রয়েছে, ২০টি (১৯.৮%) ব্যবহারের অনুপযোগী
- 📌 দরকারের সময় অক্সিজেন না পেয়ে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন দেশের অসংখ্য রোগী
- 📌 আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান জানান, উন্নয়নশীল দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪৬ জন হাসপাতালে যেতে পারেন না অথবা যেতে পারলেও সেবা পান না
📰 বিস্তারিত
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, আগামী মহামারি মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কিন্তু করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোনো শিক্ষা নিতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইইউবির আয়োজিত নীতি সংলাপে উপস্থাপিত হয়েছে যে, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অক্সিজেন সরবরাহে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
ল্যানসেট কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪৬ জন হাসপাতালে যেতে পারেন না। এর মধ্যে ৮ শতাংশ হাসপাতালে গিয়ে দেখেন সেবা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি নেই। আরেকটি ৮ শতাংশ মানসম্পন্ন সেবা পান না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, তীব্র সমস্যায় আক্রান্ত বা অস্ত্রোপচারের সময় মোট ৭০ শতাংশ মানুষ অক্সিজেন পান না।
বাংলাদেশে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ টন মেডিক্যাল অক্সিজেন প্রয়োজন হলেও করোনা মহামারির সময় দৈনিক চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০০ টনে। সরকার তখন নিজস্ব অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় ৯৯টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু অধিকাংশ প্ল্যান্টই নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে নির্মাণ করা হয়, যার ফলে এখন সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
"দরকারের সময় অক্সিজেন দিতে দেরি করা মানে শুধু একটি চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যর্থ হওয়া নয়; এর অর্থ একটি জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।"
আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ১০১টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। দেখা যায়, মাত্র ৩৪টি প্ল্যান্ট সচল রয়েছে, ৪৭টি চালু দেখা গেলেও মূল্যায়নের সময় সেগুলো চালু ছিল না। আর ২০টি প্ল্যান্ট ব্যবহারের অনুপযোগী। স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো ও সরঞ্জামের অপচয় ও দুর্নীতির কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ শতাংশ, ১০০ জন, ৪৬ জন, ৮ শতাংশ, ১১০-১২০ টন, ৪০০ টন, ৯৯টি, ১০১টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!