📌 ২০২২ সালে শুটিংয়ে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হন অভিনেত্রী শিমু। পরদিন কেরানীগঞ্জ থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে উঠে আসে পারিবারিক কলহ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বামী ব্যবসায়ী নোবেলসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ
ঢাকাই শোবিজ অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি সকালে শুটিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তিনি। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে না পৌঁছালে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা। পরবর্তীতে তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে উঠে আসে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও হত্যার আলামত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি সকালে শুটিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন অভিনেত্রী শিমু
- 📌 পরদিন কেরানীগঞ্জের হযরতপুর সেতুর কাছের ঝোপঝাড় থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
- 📌 তদন্তে উঠে আসে পারিবারিক কলহ, স্বামীর সন্দেহ ও হত্যার অভিযোগ
- 📌 গাড়িতে পাওয়া যায় তীব্র ব্লিচিং পাউডারের গন্ধ ও রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলার আলামত
- 📌 স্বামী ব্যবসায়ী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ
📰 বিস্তারিত
অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু ছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্র ও নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে হাতেখড়ি হলেও পরবর্তীতে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াতের নজরে এসে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বর্তমান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করেন তিনি। ক্যারিয়ারে প্রায় ২৫টি চলচ্চিত্র ও প্রায় ৫০টি নাটকে অভিনয় করেছেন শিমু। সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ছিল ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জামাই শ্বশুর’। পরবর্তী সময়ে তিনি অনুষ্ঠান প্রযোজনা এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বিপণন বিভাগেও কাজ করেন।
২০০৪ সালে ব্যবসায়ী সাখাওয়াত আলী নোবেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শিমু। গ্রিন রোডের বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের সংসার ছিল। তবে তদন্ত সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। স্ত্রীকে কেন্দ্র করে নোবেলের মনে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। করোনাকালীন অর্থনৈতিক চাপ পারিবারিক অশান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।
২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি সকালে শুটিংয়ে যাওয়ার কথা বলে শিমু বাসা থেকে বের হন। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে না পৌঁছালে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শিমুর বোন ফাতিমা নিশা কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বামী নোবেলও থানায় যান।
নিখোঁজের এক দিন পর, ১৭ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের হযরতপুর সেতুর কাছের ঝোপঝাড়ে একটি পরিত্যক্ত বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তার ভেতর থেকে এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম মরদেহ শনাক্ত করেন।
তদন্তের শুরুতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে পুলিশ। পরে তদন্তকারীদের নজর যায় পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং শিমু-নোবেল দম্পতির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে। গাড়ির ভেতরে তীব্র ব্লিচিং পাউডারের গন্ধ পাওয়া যায়, যা আলামত ও রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা হিসেবে তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়ায়। গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নাইলনের দড়ির সঙ্গে মরদেহ বহনে ব্যবহৃত বস্তার দড়ির মিল পাওয়া যায়।
"১৬ জানুয়ারি সকালে শিমু ও নোবেলের মধ্যে তীব্র ঝগড়ার একপর্যায়ে শিমুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ বস্তাবন্দী করা হয় এবং রাতের দিকে কেরানীগঞ্জের একটি নির্জন এলাকায় ফেলে আসা হয় বলে পুলিশি তদন্তে উঠে আসে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, কেরানীগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাইমা ইসলাম শিমু, সাখাওয়াত আলী নোবেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫টি চলচ্চিত্র, ৫০টি নাটক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!