📌 রাতে সামান্য আলোতে ঘুমালে হৃদয়ের গঠনে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, আলোর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের হৃদয় দুর্বল ও রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা এই সম্পর্কের পেছনে ঘুমের ঘাটতি ও মেলাটোনিন হরমোনের প্রভাবকে দায়ী করেছেন
রাতে ঘুমের সময় ঘরে সামান্য আলো জ্বালিয়ে রাখলে তা হৃদয়কে ক্ষতির দিকে ধাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি নতুন গবেষণায় এই বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে আলোর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের হৃদয়ের গঠনে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ হাজার+ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাতে আলোর সংস্পর্শে থাকলে হৃদয়ের প্রকোষ্ঠ বড় ও দেয়াল মোটা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
- 📌 ৩৪ মিনিটের বেশি ৩ লাক্সের বেশি আলোতে থাকলে হৃদয়ের দেয়াল ১.৫ শতাংশ বেশি মোটা হয় এবং বাঁ নিলয়ের ভর ২.৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
- 📌 ৭৩ হাজার+ ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাতে আলোর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের হার্ট ফেইলিউর ঝুঁকি ২৯ শতাংশ বেশি, স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ বেশি।
- 📌 মেলাটোনিন হরমোন কমে যাওয়ায় ঘুমের চক্র ব্যাহত হয়, যা পরোক্ষভাবে হৃদয়কে ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়।
- 📌 ঘুমের ঘাটতি এই পরিবর্তনের প্রায় ২৫-৫০ শতাংশ ব্যাখ্যা করতে পারে, বলে গবেষকরা।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগতত্ত্ববিদ লু চি নেতৃত্বাধীন গবেষক দল ১০ হাজারাধিক প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই আবিষ্কার করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে প্রায় অন্ধকারে ঘুমায়, তাদের তুলনায় সামান্য আলোতে ঘুমানোর ব্যক্তিদের হৃদয়ের প্রকোষ্ঠ কিছুটা বড় এবং দেয়াল মোটা হওয়ার প্রবণতা বেশি। আলোর পরিমাণ যত বেড়েছে, হৃদয়ের পরিবর্তনের ঝুঁকিও তত বেড়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে।
গবেষকরা আরও একটি বিশাল বিশ্লেষণে ৭৩ হাজার ২৮৬ জনের তথ্য পরীক্ষা করেছেন। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাতে সবচেয়ে বেশি আলোর সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের আট থেকে দশ বছরের মধ্যে হৃদয় ও রক্তনালির বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ বেশি, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের ঝুঁকি ১৫ শতাংশ বেশি, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনের ঝুঁকি ২৪ শতাংশ বেশি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ বেশি। হৃদয় ও রক্তনালিসংক্রান্ত রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৬ শতাংশ বেশি ছিল।
গবেষণাটি যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের এক সপ্তাহ ধরে হাতে পরা আলোকসংবেদী যন্ত্রের মাধ্যমে রাতে কতটা আলোতে ছিলেন, তা মাপা হয়। পাশাপাশি কার্ডিওভাসকুলার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স (সিএমআর) প্রযুক্তির সাহায্যে হৃদয়ের গঠন ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষকরা মনে করেন, রাতে আলো হৃদয়কে ক্ষতির দিকে নিয়ে যায় কারণ এটি মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোন ঘুমের সময় ও ঘুম-জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে রাতে আলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে পরোক্ষভাবে হৃদয়কে বাড়তি চাপ দেয়।
"রাতে বেশি মাত্রায় আলোর সংস্পর্শের সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতার পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সাধারণত দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বা হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতির প্রতিক্রিয়াজনিত কারণে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।"
লু চি, যুক্তরাষ্ট্রের টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোগতত্ত্ববিদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়), যুক্তরাজ্য (ইউকে বায়োব্যাংক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লু চি (রোগতত্ত্ববিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার+ (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী), ৭৩ হাজার+ (দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ), ৩৪ মিনিট (আলোর সংস্পর্শ), ৩ লাক্স (আলোর তীব্রতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!