📌 মুর্তজা বশীরের শিল্পী জীবন ও তার আধুনিকতাবাদী শৈলী নিয়ে প্রথম আলো ২০০৫ সালে প্রকাশিত মইনুদ্দীন খালেদের লেখা ‘ধ্রুপদি ধ্যানের শিল্পী’-এ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের গুলিবিদ্ধ শহীদের ছবি আঁকা থেকে শুরু করে এক্সপ্রেশনিজমের দিকনির্দেশনা পর্যন্ত তাঁর শিল্পী জীবনের গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে
মুর্তজা বশীরের শিল্পী জীবন ও তার আধুনিক শিল্পের সন্ধানী ভূমিকা নিয়ে প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকীতে ১৯ আগস্ট ২০০৫ সালে প্রকাশিত মইনুদ্দীন খালেদের লেখা ‘মুর্তজা বশীর: ধ্রুপদি ধ্যানের শিল্পী’ আজ অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। এই লেখায় শিল্পী মুর্তজা বশীরের সৃজনশীলতা, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং আধুনিক শিল্পের প্রতি তার অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদের রক্তমাখা দেহে জড়িয়ে ধরা মুর্তজা বশীরের শিল্পী জীবনের গভীর প্রভাব
- 📌 একাডেমিক শিল্প শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসা মুর্তজা বশীরের এক্সপ্রেশনিজমের শৈলী ও ভ্যান গঘের প্রভাব
- 📌 ‘জবাই করা দুটি মোরগ ও রক্তাক্ত ছুরি’ ও ‘ছেঁড়া বুট জুতা’-এর মতো চিত্রে প্রকাশিত তার চেতনার দাহ
- 📌 শিল্পী জীবনে শ্রমজীবীদের জীবন ও ভাষা আন্দোলনের প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে তার সৃজনশীলতা
- 📌 পঞ্চাশের দশকের শিল্প আন্দোলনে একাডেমিক রিয়ালিজমের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি খুঁজে নেওয়ার তার প্রচেষ্টা
📰 বিস্তারিত
মুর্তজা বশীরের শিল্পী জীবন শুরু হয়েছিল একাডেমিক শিল্প শিক্ষার মধ্য দিয়ে। তবে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও ভাষা আন্দোলনের প্রভাব তাকে একাডেমিক রিয়ালিজমের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি খুঁজতে বাধ্য করে। তিনি বলেছিলেন, ‘আলীগড়ে যাও’ বলে বাবা বললেও তিনি ‘আর্ট কলেজ’-এ ভর্তি হন। কিন্তু শিল্প শিক্ষায় তার আগ্রহ ছিল না, কারণ তিনি শিশুকাল থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ইশকুলের ড্রয়িং ক্লাসে তিনি গোল্লা পেতেন, কিন্তু রাজনৈতিক পোস্টার আঁকা তাকে আকর্ষণ করত।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদের রক্তমাখা দেহে পুত্র বাসায় ফিরলে তাঁর পিতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ গরীয়ান হয়ে যান। সেই ঘটনাটি শিল্পী মুর্তজা বশীরের জীবনে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বাহুতে বেঁধে দাও শোকের কালো কাপড়’। এই ঘটনা তার শিল্পী জীবনে একটি চিরন্তন প্রভাব ফেলে। তিনি ভাষা আন্দোলনের লিনোকাট ও স্কেচ আঁকেন, যা তার শিল্পী জীবনের উষাকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়।
একাডেমিক শিল্প শিক্ষা তাকে বস্তুসাদৃশ্য আঁকার তালিম দিয়েছিল, কিন্তু ভাষা আন্দোলন ও সমাজ বদলের পূর্বশর্ত হিসেবে নিজেকে বদলানোর প্রয়োজনীয়তা তাকে নতুন শৈলী খুঁজতে বাধ্য করে। তিনি এক্সপ্রেশনিজমের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন এবং ভ্যান গঘের প্রভাব তার শিল্পে স্পষ্ট দেখা যায়। তার ‘জবাই করা দুটি মোরগ ও রক্তাক্ত ছুরি’ ও ‘ছেঁড়া বুট জুতা’-এর মতো চিত্রে তার চেতনার দাহ এবং এক্সপ্রেশনিজমের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
পঞ্চাশের দশকের শিল্প আন্দোলনে জয়নুল আবেদিনের মতো শিল্পীরা একাডেমিক রিয়ালিজমের পথে চললেও মুর্তজা বশীর সেই পথ থেকে দ্রুত চলে আসেন। তিনি রিয়ালিজমের স্পষ্ট হিসাব ও জলরঙের মিস্টিফায়েড অবস্থা থেকে মুক্তি খুঁজে নেন। তার শিল্পে রহস্যভেদ ও নতুন রহস্য ঘনীভূত হওয়ার চেষ্টা ছিল। তিনি বিশ্বাসের জগতে একটা দাপাদাপি নিয়ে ছিলেন, যা জগৎ-সংসারে নানা আস্থা ও অনাস্থার মধ্যে তার শিল্পকে নতুন দিক দিয়েছিল।
"তিনি ‘দুরন্ত শিশু’, ফরাসিতে যাকে বলে ‘অফ তেরিবল’। বাবা বলেছিলেন, ‘আলীগড়ে যাও।’ তিনি বলেছিলেন, ‘না, আর্ট কলেজ’।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (শিল্পী জীবনের মূল কেন্দ্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুর্তজা বশীর, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মইনুদ্দীন খালেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৫২ (ভাষা আন্দোলন), ১৯ আগস্ট ২০০৫ (লেখা প্রকাশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!