📌 ২২ বছর পর নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ অনিয়ন্ত্রিতভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে। এই টেলিস্কোপ মহাজাগতিক বিস্ফোরণ ও গামা-রে বার্স্টের তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল
২২ বছর ধরে মহাজাগতিক গবেষণায় অবদান রাখা নাসার সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ গত বুধবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চলের ওপরে অবস্থানরত টেলিস্কোপটি বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০০৪ সালে উৎক্ষেপিত সুইফট টেলিস্কোপের ওজন ছিল ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড
- 📌 ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে টেলিস্কোপটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে গেছে
- 📌 নাসা আগস্টে ৩ কোটি ডলার ব্যয়ে উদ্ধার মিশন চালায়, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়
- 📌 টেলিস্কোপটি ২ হাজার ২০০টি গামা-রে বার্স্ট ও ১ হাজার ৪০০টি বিস্ফোরিত তারা পর্যবেক্ষণ করেছিল
- 📌 পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী জন নৌসেক বলেছেন, নিম্ন কক্ষপথে অবস্থানরত কোনো উপগ্রহ অবশ্যই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যাবে
📰 বিস্তারিত
মহাবিশ্বের শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও গামা-রে বার্স্ট পর্যবেক্ষণের জন্য নাসা ২০০৪ সালে সুইফট স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করেছিল। এই টেলিস্কোপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দ্রুত মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর দিকে ঘুরে যাওয়ার ক্ষমতা, যা হাবল ও জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মতো অন্যান্য মহাকাশ টেলিস্কোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বর্ধিত সৌর কার্যকলাপের কারণে সুইফটের কক্ষপথ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেছিল। নাসা আগস্টে একটি উদ্ধার মিশন চালায়, যেখানে একটি মহাকাশযানকে টেলিস্কোপটিকে উচ্চতর কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। তবে এই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং টেলিস্কোপটি অবশেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায়।
নাসার প্রশাসক জারেড আইজ্যাকম্যান বলেছেন, ‘সুইফট মিশন মানুষের জানার পরিধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই টেলিস্কোপটি ২ হাজার ২০০টি গামা-রে বার্স্ট এবং ১ হাজার ৪০০টি বিস্ফোরিত তারার তথ্য সংগ্রহ করেছিল।
"আমরা সুইফট উৎক্ষেপণের আগ থেকেই এই দিনের কথা জানতাম। নিম্ন কক্ষপথে যা ওপরে ওঠে, তা নিচে নামবেই। আর সেই সমাপ্তি ধ্বংসাত্মক হয়।"
— পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী জন নৌসেক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জারেড আইজ্যাকম্যান (নাসার প্রশাসক), জন নৌসেক (জ্যোতির্বিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর (মহাকাশে অবস্থান), ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড (ওজন), ২ হাজার ২০০টি গামা-রে বার্স্ট, ১ হাজার ৪০০টি বিস্ফোরিত তারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!