📌 শারীরিক সীমাবদ্ধতা মোকাবেলা করে সুইটি আক্তার মুন্নি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিয়েছেন টাঙ্গাইল এলাকার একটি প্রেস্কুলে। তিনি নিজের সৃজনশীল প্রতিভা ব্যবহার করে বাটিক কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন
শারীরিক সীমাবদ্ধতা মোকাবেলা করে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন সুইটি আক্তার মুন্নি। বাকপ্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মগ্রহণকারী এই নারী উদ্যোক্তা ও শিক্ষক শিক্ষা ও সৃজনশীলতা দিয়ে নিজের জীবনকে একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পে রূপ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের পাকুটিয়া এলাকার অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনে চারুকলা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **শিক্ষকতা পেশায় যোগদান**: টাঙ্গাইলের পাকুটিয়া এলাকার অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনে চারুকলা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সুইটি আক্তার মুন্নি।
- 📌 **সৃজনশীল উদ্যোক্তা**: নিজের সৃজনশীল প্রতিভা ব্যবহার করে তিনি বাটিক ও বুটিক কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কামিজ ও শাড়িতে নকশা আঁকেন।
- 📌 **শিক্ষাজীবনের সাফল্য**: ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স সম্পন্ন করেছেন।
- 📌 **অনুপ্রেরণা হিসেবে**: শিক্ষক ও সহপাঠীদের দ্বারা প্রশংসিত মুন্নি, বাকপ্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে শিক্ষা ও কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের গল্পটি শেয়ার করেছেন।
- 📌 **পরিবারের গর্ব**: মা সুফিয়া বেগম বলেছেন, ‘মেয়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নের প্রতি অটলতা আমাকে গর্বিত করেছে। তিনি জীবনে আরও এগিয়ে যাক, তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুক।’
📰 বিস্তারিত
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার আব্দুল মালেক ও সুফিয়া বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় মুন্নি। তার বাবা আব্দুল মালেক একজন পুলিশ কনস্টেবল, বর্তমানে ঘাটাইল থানায় কর্মরত আছেন। মুন্নি ঘাটাইল গণপাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন। পরে তিনি ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি মুন্নির ছিল ছবি আঁকার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। কলেজে পড়াশোনার সময় তিনি জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেয়ালপত্রিকা সাজানোর কাজে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তার আঁকা ছবিতে মুগ্ধ হয়েছেন শিক্ষক ও সহপাঠীরা। ছবি আঁকার সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের মতো করে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কামিজ ও শাড়িতে নকশা আঁকতে শুরু করেছেন। ধীরে ধীরে তার সৃজনশীল কাজই হয়ে ওঠে উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা। বর্তমানে তিনি নিজ উদ্যোগে একটি বাটিক ও বুটিক কারখানা পরিচালনা করছেন।
মুন্নি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার খবর জানাতে দীর্ঘদিন পর ভূঞাপুরের ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে গিয়ে নিজের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তার অর্জন ও অদম্য প্রচেষ্টায় মুগ্ধ হয়ে কলেজের একজন শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন, ‘প্রচলিত পদ্ধতিতে বাকপ্রতিবন্ধকতা জয় করে কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। পড়াশোনার ফলাফলও ছিল ভালো। ছবি আঁকার পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এবার শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার খবর জানাতে কলেজে এসেছেন তিনি।’
"অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ একদিন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। মুন্নির আরও সাফল্য কামনা করে আমি লিখেছি, ‘জয় হোক তোমার ইচ্ছাশক্তির।’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল (পাকুটিয়া এলাকা), শেরপুর (শ্রীবরদী উপজেলা), ঘাটাইল (গণপাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ক্যান্টনমেন্ট স্কুল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুইটি আক্তার মুন্নি, আব্দুল মালেক, সুফিয়া বেগম, শিক্ষক (ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (সন্তানের সংখ্যা), ১ (বাটিক কারখানা), ১ (অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনে সহকারী শিক্ষক পদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!