📌 মিলেনিয়াল মায়েদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত পরামর্শ, নিখুঁত মাতৃত্বের প্রত্যাশা এবং কর্মজীবন-পরিবার ভারসাম্যের চাপে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের নারীদের জন্য মাতৃত্ব সবচেয়ে কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা
মিলেনিয়াল প্রজন্মের নারীদের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত পরামর্শ, নিখুঁত মা হওয়ার অপরিহার্য প্রত্যাশা এবং কর্মজীবন-পরিবার ভারসাম্য রক্ষার চাপে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের নারীদের ওপর মাতৃত্বের দায়িত্বের চাপ আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৪ বছর বয়সী মডেল ও সঙ্গীতশিল্পী সুইকি ওয়াটারহাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তান লালন-পালনের পরামর্শ নিয়ে হাস্যরসের ছলে মাতৃত্বের চাপ তুলে ধরেছেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বিষয়টি মজার নয় বরং মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে মায়েদের।
- 📌 যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাইন্ড মমি কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লরা গাকিয়ান নিজেও প্রথম সন্তান জন্মের পর মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তিনি বলেছেন, মিলেনিয়াল প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় সবকিছু একসঙ্গে সফলভাবে করা সম্ভব, কিন্তু বাস্তবতা তত সহজ নয়।
- 📌 ২০১৮ সালের গবেষণা দেখিয়েছে, নিখুঁত মা হওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা অভিভাবকদের মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে তুলছে। ২০২২ সালের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে তুলনা এবং একাই সব দায়িত্ব সামলানোর প্রবণতা কর্মক্ষেত্র ও সন্তান প্রতিপালনে মানসিক ক্লান্তি সৃষ্টি করছে।
- 📌 ব্যক্তিগত স্টাইলিস্ট ক্যাট ন্যাপও নিজেকে অন্যদের তুলনায় অপরিণত মা মনে করতেন এবং সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণে প্রসব-পরবর্তী উদ্বেগের শিকার হয়েছিলেন। দুই বছর থেরাপি নেওয়ার পর তিনি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর খাবার, ঘুমের সময়সূচি ও প্রতিপালনের পদ্ধতি নিয়ে অসংখ্য পরামর্শ মায়েদের বিভ্রান্ত করছে। যুক্তরাজ্যের এক মা জানান, ৩০০ পাউন্ড খরচ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরও তার উদ্বেগ কমেনি।
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান লালন-পালন নিয়ে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সেসব পরামর্শ বাস্তবায়নের দায়িত্ব এককভাবে মায়েদের ওপর চাপানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সংঘাতের মতো অনিশ্চয়তাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
📰 বিস্তারিত
মডেল ও সঙ্গীতশিল্পী সুইকি ওয়াটারহাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তান লালন-পালনের পরামর্শ নিয়ে হাস্যরসের ছলে মাতৃত্বের চাপ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানের দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলার বিষয়ে মিলেনিয়াল মায়েদের অতিরিক্ত সচেষ্ট থাকার বিষয়টি মজার ছলে তুলে ধরেছেন। তবে বিষয়টি যে মোটেও হাস্যরসের নয়, তা মনে করেন মাতৃত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাইন্ড মমি কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লরা গাকিয়ান বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মের নারীদের জন্য মাতৃত্ব সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা। তিনি নিজেও প্রথম সন্তান জন্মের পর তীব্র মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। গাকিয়ান বলেন, মিলেনিয়াল প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয়েছে—উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার, সংসার ও সন্তান প্রতিপালন সবকিছু একসঙ্গে সফলভাবে করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়।
২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, নিখুঁত মা হওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা অভিভাবকদের মানসিক অবসাদ বাড়িয়ে তুলছে। ২০২২ সালের আরেক গবেষণায় উঠে আসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে তুলনা এবং সব দায়িত্ব একাই সামলানোর প্রবণতা কর্মক্ষেত্র ও সন্তান প্রতিপালন উভয় ক্ষেত্রেই মানসিক ক্লান্তি সৃষ্টি করছে। ব্যক্তিগত স্টাইলিস্ট ক্যাট ন্যাপও নিজেকে অন্যদের তুলনায় অপরিণত মা মনে করতেন এবং সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণে প্রসব-পরবর্তী উদ্বেগের শিকার হয়েছিলেন। দুই বছর থেরাপি নেওয়ার পর তিনি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর খাবার, ঘুমের সময়সূচি, স্ক্রিন টাইম কিংবা সন্তান প্রতিপালনের পদ্ধতি নিয়ে অসংখ্য পরামর্শ মায়েদের বিভ্রান্ত করছে। অথচ সব শিশুর প্রয়োজন এক নয়। যুক্তরাজ্যের আরেক মা এলা জানান, সন্তানের ঘুমের সময়সূচি ঠিক করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শ অনুসরণ এবং একজন বিশেষজ্ঞকে ৩০০ পাউন্ড দেওয়ার পরও তাঁর উদ্বেগ কমেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝেছেন, অন্যের পরামর্শের চেয়ে সন্তানের প্রয়োজন ও নিজের মানসিক স্বস্তিকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি।
"মা ভালো না থাকলে পুরো পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্তান ও মা—দুজনের সুস্থতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে মাতৃত্বের প্রকৃত ভারসাম্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (অনলাইন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুইকি ওয়াটারহাউস, লরা গাকিয়ান, ক্যাট ন্যাপ, এলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ বছর (সুইকি ওয়াটারহাউসের বয়স), ৩০০ পাউন্ড (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শের খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!