📌 সকালে ওঠা মানুষের কার্যকর স্মৃতিতে সুবিধা থাকলেও রাত জাগা মানুষের সৃজনশীল কাজে সামান্য সুবিধা পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিজের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে কাজের সময়সূচি মিলিয়ে নিলে অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। তবে রাত জাগা মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি দেখা যায়, যা ঘুমের অমিলের কারণে হতে পারে
বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠা মানুষের কার্যকর স্মৃতিতে সুবিধা থাকলেও রাত জাগা মানুষের সৃজনশীল কাজে সামান্য সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এই দুই ধরনের মানুষেরই নিজস্ব সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের ওঠা মানুষেরা সকালে ভালোভাবে কাজ করতে পারে এবং সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বেশি সতর্ক থাকা মানুষেরা সৃজনশীল কাজে সামান্য সুবিধা পেতে পারে। তবে জীবনযাত্রার সময়সূচি এই সুবিধাগুলোকে কার্যকর করতে পারে বা বাধা দিতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সকালের ওঠা মানুষের কার্যকর স্মৃতিতে সুবিধা — তারা সকালে ভালোভাবে কাজ করতে পারে এবং সকালেই মনোযোগ দিতে পারে, যা পরীক্ষা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য উপযোগী।
- 📌 রাতের জাগা মানুষের সৃজনশীল কাজে সামান্য সুবিধা — তারা সন্ধ্যার দিকে সৃজনশীল কাজে ভালো করতে পারে, কিন্তু সকালে কাজ করার সময় অসুবিধায় পড়তে পারে।
- 📌 ব্রায়ান গানিয়ারের পরামর্শ — নিজের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে কাজের সময়সূচি মিলিয়ে নিলে অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। তিনি নিজে সকালে ঘুম থেকে ওঠেন এবং লেখালেখির মতো কঠিন কাজগুলো দিনের শুরুতেই করেন।
- 📌 স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি রাতের জাগা মানুষের — টাইপ ২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
- 📌 ঘুমের অমিলের কারণে স্বাস্থ্য সমস্যা — রাত জেগে সকালে উঠতে হয়, ফলে ঘুম কমে যায়, ক্লান্তি বাড়ে এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠা মানুষের কার্যকর স্মৃতিতে সুবিধা থাকলেও রাত জাগা মানুষের সৃজনশীল কাজে সামান্য সুবিধা পাওয়া যায়। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রায়ান গানিয়ার বলেছেন, নিজের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে কাজের সময়সূচি মিলিয়ে নিলে অনেক ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। তিনি নিজে যেমন সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, তাই লেখালেখির মতো কঠিন কাজগুলো দিনের শুরুতেই করার চেষ্টা করেন।
২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে ঘুম থেকে ওঠা মানুষেরা সকালে ভালোভাবে কাজ করতে পারে এবং সকালেই মনোযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, রাত জাগা মানুষেরা সন্ধ্যার দিকে সৃজনশীল কাজে তুলনামূলক ভালো করতে পারেন। তবে জীবনযাত্রার সময়সূচি এই সুবিধাগুলোকে কার্যকর করতে পারে বা বাধা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন রাত জাগা কর্মীকে প্রতিদিন সকাল ৯টায় গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন দিতে হয়, তাহলে তিনি দিনের ওই সময়ে কিছুটা অসুবিধায় পড়তে পারেন। কারণ, তখন তাঁর শরীর ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রাত জাগা মানুষের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে রাত জাগাই পুরো সমস্যার কারণ নয়। শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ির সঙ্গে সমাজের সময়সূচির অমিল এবং তার ফলে তৈরি হওয়া অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
"তুমি যখন খুব ক্লান্ত, তখন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক ভেবে দেখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ কিংবা নৈতিকভাবে জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের মানসিক অবস্থার দিকেও খেয়াল রাখা ভালো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী গবেষণা (জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়, স্লিপ অ্যাডভান্সেস সাময়িকী, নেচার কমিউনিকেশন্স)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ব্রায়ান গানিয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ টা, ৯ টা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস (২)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!