📌 বাংলাদেশের বনাঞ্চলে মহাবিপন্ন অবস্থায় পড়েছে চিরসবুজ গাছ চালমুগরা। আইইউসিএন রেড লিস্টে অন্তর্ভুক্ত এই গাছের বীজের অত্যধিক আহরণ এবং কম বংশবৃদ্ধির হারের কারণে বর্তমানে মাত্র ১০০-এর কম উদ্ভিদ বেঁচে আছে। ঔষধি গুণসম্পন্ন এই গাছের তেল কুষ্ঠ, চর্মরোগ ও ডায়াবেটিস চিকিৎসায় কার্যকর
বাংলাদেশের বনাঞ্চলে মহাবিপন্ন অবস্থায় পড়েছে একটি অত্যন্ত মূল্যবান ঔষধি গাছ — চালমুগরা। এই গাছের বীজের তেল কুষ্ঠ, চর্মরোগ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক আবাসে মাত্র ১০০-এর কম উদ্ভিদ বেঁচে আছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ-ভারতে এই গাছের সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মহাবিপন্ন** চালমুগরা গাছের বীজের তেল কুষ্ঠ, চর্মরোগ ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যা এর বিলুপ্তির প্রধান কারণ
- 📌 **বাংলাদেশের ৬টি জেলায়** (বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার) মোট ১০টি স্থানে প্রাকৃতিক আবাসে মাত্র ১০০-এর কম গাছ বেঁচে আছে
- 📌 **প্রতিটি আবাসস্থলে** মাত্র ১ থেকে ৩টি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ দেখা গেছে, যা ‘অত্যন্ত বিপন্ন’ হিসেবে বিবেচিত সূচকের চেয়ে অনেক কম
- 📌 **গাছের উচ্চতা** ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে, তবে বর্তমানে এর বংশবৃদ্ধির হার অত্যন্ত কম
- 📌 **চীন ও আর্জেন্টিনায়** চালমুগরার তেল ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়
📰 বিস্তারিত
প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক লেখক মোকারম হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, চালমুগরা (Hydnocarpus kurzii) চিরসবুজ মাঝারি আকারের একটি গাছ। এই গাছের বীজের তেল কুষ্ঠ, চর্মরোগ ও অন্যান্য চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। গত ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম এবং আইইউসিএন প্রকাশিত রেড লিস্টে গাছটিকে মহাবিপন্ন উদ্ভিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও মৌলভীবাজারের কিছু বনাঞ্চলে এই গাছের প্রাকৃতিক আবাস পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে মাত্র ১০টি স্থানে এই গাছের বেঁচে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানের পলি ও রেমাক্রি প্রাংসা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হাজারীখিল, বারোইয়াধলা ও ধোপাছড়ি, কক্সবাজারের ভোমারিঘোনা, খাগড়াছড়ির আলুটিলা, রাঙামাটির রামপাহাড়, দামাইছড়ি, ফারুয়া, কাসালং-মাসালং ও পাবলাখালী এবং মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ও শ্রীমঙ্গল।
গাছটির দ্রুত বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর বীজের অত্যধিক আহরণ। কারণ, বীজের তেল কুষ্ঠ ও অন্যান্য চর্মরোগের চিকিৎসায় কার্যকর। গত ১০ বছরে বাংলাদেশ-ভারতে এই প্রজাতির সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গাছটির বংশবৃদ্ধির হারও অত্যধিক কম।
"চালমুগরার তেল গরম করে তাতে মৌচাকের মোম মিশিয়ে মলম তৈরি করে খোসপাঁচড়া ও সাধারণ ঘায়ে লাগালে সেরে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোকারম হোসেন (প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০-এর কম (মোট উদ্ভিদ সংখ্যা), ৫০% (গত ১০ বছরে সংখ্যা হ্রাস), ১২-১৫ মিটার (গাছের উচ্চতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!