📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ম্যাক্সিং ট্রেন্ড’ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অতিরিক্ত অপটিমাইজ করার প্রবণতা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে ‘ম্যাক্সিং’ নামক প্রবণতার মাধ্যমে নিখুঁত করার চেষ্টা করছে। ‘ফাইবারম্যাক্সিং’, ‘লুকসম্যাক্সিং’, ‘রিল্যাক্সম্যাক্সিং’সহ বিভিন্ন ধরনের ‘ম্যাক্সিং’ ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জীবনের সবকিছুকে অতিরিক্ত অপটিমাইজ করার এই প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ‘ম্যাক্সিং ট্রেন্ড’ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে নিখুঁত করার প্রবণতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে
- 📌 গ্লোবাল ওয়েলনেস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য-কল্যাণমূলক বাজার ২০৩০ সালে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে
- 📌 মনস্তত্ত্ববিদ বিলি ডানলেভি ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট জেনিফার হার্টস্টাইন বলেন, অতিরিক্ত ‘পারফেকশনিজম’ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
- 📌 অতিরিক্ত ফাইবার বা প্রোটিন গ্রহণ পেট ফাঁপা, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে
- 📌 ঘুম ট্র্যাকিং ডিভাইসের অতিরিক্ত নির্ভরতা ‘অর্থোসমনিয়া’ নামক নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে
📰 বিস্তারিত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেই মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে ‘ম্যাক্সিং’ নামক প্রবণতার মাধ্যমে নিখুঁত করার চেষ্টা করছে। ‘ফাইবারম্যাক্সিং’, ‘লুকসম্যাক্সিং’, ‘রিল্যাক্সম্যাক্সিং’সহ বিভিন্ন ধরনের ‘ম্যাক্সিং’ ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গ্লোবাল ওয়েলনেস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য-কল্যাণমূলক বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জীবনের সবকিছুকে অতিরিক্ত অপটিমাইজ করার এই প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইউকে-ভিত্তিক মনস্তত্ত্ববিদ বিলি ডানলেভি এবং নিউইয়র্কের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট জেনিফার হার্টস্টাইন মনে করেন, স্বাস্থ্যের উন্নতি করার ইচ্ছা থাকা নিঃসন্দেহে ভালো, কিন্তু ‘ম্যাক্সিং ট্রেন্ডের’ ভেতরে একধরনের অবাস্তব ‘পারফেকশনিজমে’র প্রবণতা কাজ করে।
‘প্রোটিনম্যাক্সিং’ এবং ‘ফাইবারম্যাক্সিং’-এর ক্ষেত্রে মানুষ ব্যাকুল হয়ে খাবারে এগুলোর পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমেরিকানদের জন্য সাম্প্রতিক ডায়েটারি গাইডলাইন অনুযায়ী, অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে ফাইবার ও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিউইয়র্কের প্রিভেনটিভ কার্ডিওভাসকুলার ডায়েটিশিয়ান মিশেল রুথেনস্টাইনের মতে, পুষ্টি সব সময় বয়সের চাহিদা ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করা উচিত। হঠাৎ অতিরিক্ত ফাইবার খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শরীরে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ কমে যায় এবং পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
ঘুমের মান বাড়াতে অনেকে ব্ল্যাকআউট কার্টেন, ট্র্যাকারের মতো প্রযুক্তি কিংবা ‘মাউথ টেপিং’-এর শরণাপন্ন হচ্ছেন। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। তবে স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ড. অ্যাডাম মেডনিক সতর্ক করে জানান, ঘুম ট্র্যাকিং ডিভাইসের স্কোরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা উল্টো দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দেয়। ঘুমে অনিদ্রাকে কেন্দ্র করে জন্ম নেওয়া এই নতুন উদ্বেগের নাম ‘অর্থোসমনিয়া’। তা ছাড়া শ্বাসনালিতে বাধা থাকলে মুখে টেপ লাগিয়ে ঘুমানো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
"আপনি যা করছেন, তা কি অন্য কেউ না দেখলেও নিজের আনন্দের জন্য করবেন? কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য পুরোপুরি পূরণ না হলেও কি আপনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারছেন? উন্নতি অবশ্যই প্রয়োজনীয়, তবে তা যেন নিজস্ব স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে গিয়ে জীবনকে একটি দমবন্ধ করা প্রতিযোগিতায় পরিণত না করে। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সেটাই, যা থেকে প্রয়োজনবোধে কিছুদিন বিরতি নেওয়া যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনস্তত্ত্ববিদ বিলি ডানলেভি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট জেনিফার হার্টস্টাইন, ডায়েটিশিয়ান মিশেল রুথেনস্টাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!