📌 নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কদমরসুল সেতুর কাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে। এলজিইডি বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের তাগাদা দিয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরাসরি চিঠি দিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালককে
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কদমরসুল সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে নতুন জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে এলজিইডি। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি এখনো পুরোপুরি হস্তান্তর না হওয়ায় নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন গত ১৭ আগস্ট রেলওয়ের মহাপরিচালককে একটি চিঠি দিয়ে আগামী ২০ দিনের মধ্যে চাহিত জমির দখল হস্তান্তরের তাগাদা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন রেলওয়ের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে ২০ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের তাগাদা দিয়েছেন
- 📌 কদমরসুল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রেলওয়ের জমি এখনো পুরোপুরি হস্তান্তর হয়নি
- 📌 সেতুর পাইল নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করতে জমির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে
- 📌 জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হলে ঠিকাদারের অতিরিক্ত সময় বা ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এলজিইডি
- 📌 ২০২৩ সালের ১৮ মে এলজিইডি ও রেলওয়ের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গুদারাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কদমরসুল সেতু প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে রেলওয়ের মালিকানাধীন প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের তাগিদ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন গত ১৭ আগস্ট রেলওয়ের মহাপরিচালককে লেখা এক চিঠিতে জানান, সেতুর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশের পাইল নির্মাণকাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পরবর্তী ধাপের নির্মাণকাজ শুরু করতে চাহিদা অনুযায়ী জমির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
এলজিইডির আশঙ্কা, আগামী ২০ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তর করা না হলে নির্মাণকাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হবে। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী কাজ শুরু করতে পারবে না। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় বা ক্ষতিপূরণের দাবি উত্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন সময়ের ওপর।
কদমরসুল সেতু নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি প্রকল্প। শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে সেতুটিকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণকাজের কোনো পর্যায়ে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু প্রকল্পের ওপর নয়, বৃহত্তর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে বলে এলজিইডি উল্লেখ করেছে।
রেলওয়ের জমি হস্তান্তরের বিষয়ে এলজিইডি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল ২০২৩ সালের ১৮ মে। এরপর গত ২৭ জুলাই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে রেলওয়ে এলজিইডির চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করবে। তবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় জমি হস্তান্তরের আগে ক্ষতিপূরণের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে এলজিইডি।
"জমির দখল হস্তান্তর এবং স্থাপনার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধ—দুই প্রক্রিয়া একই সঙ্গে চলতে পারে। এতে একদিকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে জমির ওপর থাকা স্থাপনার মালিকদের আইনানুগ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান থাকবে।"
এলজিইডির যুক্তিতে, জমির দখল হস্তান্তরকে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও পরিশোধের সঙ্গে পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্ত না রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হলে ঠিকাদারের নির্মাণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হতে পারে। একপর্যায়ে যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক বসিয়ে রাখার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এতে বাড়তি ব্যয়ের দাবি উঠতে পারে। আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের সার্বিক সুফল পাওয়ার সময়ও পিছিয়ে যাবে।
এদিকে চাহিত জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ আগামী ২৩ আগস্ট সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি। এজন্য ওই দিন বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ, শীতলক্ষ্যা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. বেলাল হোসেন (এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ দিন, ১৭ আগস্ট, ৫ নম্বর ওয়ার্ড, ১৮ মে, ২৭ জুলাই, ২৩ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!