📌 আমাজনের গভীরে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবিষ্কৃত হয়েছে শত শত প্রাচীন ভূ-লিপি। গবেষকরা অনুমান করেন, এগুলো নির্মাণ করেছিল এক লাখ ৮৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত অ্যাকুইরি সভ্যতার মানুষ। ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত এ কাঠামোগুলো সম্ভবত আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত
ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত শত প্রাচীন ভূ-লিপি আবিষ্কার করেছে গবেষকরা। লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বিশাল কাঠামোগুলোকে প্রথমবারের মতো সনাক্ত করা হয়েছে, যা সম্ভবত এক লাখ ৮৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত অ্যাকুইরি সভ্যতার মানুষ নির্মাণ করেছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং সম্ভবত আনুষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাজিলের আমাজনে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবিষ্কৃত হয়েছে ৪৩২টি প্রাচীন ভূ-লিপি, যার অধিকাংশ আগে কখনো নথিভুক্ত করা হয়নি
- 📌 গবেষকরা অনুমান করেন, অ্যাকুইরি সভ্যতার মানুষ ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দে সর্বোচ্চ সমৃদ্ধিতে ৩০ লাখ মানুষের বাসস্থান ছিল
- 📌 ১৫ মিটার চওড়া ও ৫ মিটার গভীর নালা খুঁজে পেয়েছে গবেষকরা, যা বড় বড় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়
- 📌 গবেষকরা ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যা ভূ-লিপিগুলোকে সংযুক্ত করেছে
- 📌 গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার’ জার্নালে, যেখানে স্পেন, ফিনল্যান্ড, ব্রাজিল ও ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অংশ নিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত শত প্রাচীন ভূ-লিপি আবিষ্কার করেছে গবেষকরা। এই বিশাল কাঠামোগুলোকে জিওগ্লিফ নামে পরিচিত। গবেষকরা লাইডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘন জঙ্গলের উপরিভাগ স্ক্যান করে এই কাঠামোগুলোকে সনাক্ত করেছেন। লাইডার প্রযুক্তি লেজার পালস ব্যবহার করে দূরত্ব পরিমাপ করে এবং জটিল ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৪৩২টি ভূ-লিপি শনাক্ত করেছেন, যার অধিকাংশ আগে কখনো নথিভুক্ত করা হয়নি।
গবেষকদের মতে, এই ভূ-লিপিগুলো নির্মাণ করেছিল অ্যাকুইরি সভ্যতার মানুষ। তারা অনুমান করেন, এই সভ্যতা প্রায় এক লাখ ৮৩ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যা আয়তনে মোটামুটি কম্বোডিয়া বা সিরিয়ার সমান। গবেষকরা বলছেন, ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দে এই সভ্যতার সর্বোচ্চ সমৃদ্ধির সময়ে এখানে প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দা থাকতে পারে।
গবেষকদের মধ্যে একজন জীবাশ্মবিজ্ঞানী আলসেউ রানজি বলেছেন, “গ্রিসে যখন পিথাগোরাস তার উপপাদ্যটি বিকশিত করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই লোকেরা আমাজনে বিশাল জ্যামিতিক শিল্পকর্ম তৈরি করছিল।” তিনি আরও বলেছেন, “আমাজনে এটিই ছিল প্রথম সত্যিকারের উচ্চাভিলাষী লাইডার জরিপ।”
গবেষকরা ১৫ মিটার পর্যন্ত চওড়া এবং পাঁচ মিটার গভীর নালা খুঁজে পেয়েছেন। এই ধরনের বিশাল কাঠামো বড় বড় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। রানজি বলেন, “এই অঞ্চলে কোনো পাথর নেই। সম্ভবত তারা মাটি বহন করার জন্য কাঠের সরঞ্জাম ও ঝুড়ি ব্যবহার করত।”
গবেষকদের মতে, এই ভূ-লিপিগুলো সম্ভবত আনুষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত। তারা বলেন, এগুলো স্থায়ীভাবে বসবাসের স্থান না হয়ে বরং মানুষের সমাবেশস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হত। রানজি অনুমান করেন, “যদি এটি নিশ্চিত হয়… তাহলে এই লোকেরা নিশ্চয়ই শান্তিতে বসবাস করত।”
"আমাজনে এটিই ছিল প্রথম সত্যিকারের উচ্চাভিলাষী লাইডার জরিপ,"
গবেষকরা আরও বলেছেন, প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ছিল এই সভ্যতার মানুষের। তারা বলেন, “তারা কখনো এই রেইন ফরেস্টকে বৃক্ষহীন প্রান্তরে রূপান্তরিত করেনি। মনে হয়, তাদের জীবনযাত্রা টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ছিল, বন পরিষ্কার করা এবং গাছ কাটা কেবল ততটুকুই ছিল, এর বেশি কিছু নয়।”
গবেষকরা ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যা ভূ-লিপিগুলোকে পরস্পর সংযুক্ত করেছে। তারা বলেন, “এই পথগুলো ওই সব স্থানগুলোয় নিয়ে যেত, এবং স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাগুলো আরও চওড়া হয়ে যেত।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলসেউ রানজি, মার্টি পার্সিনেন, রুয়ান কার্লোস লোপেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩২টি ভূ-লিপি, ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা, ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৮৫০ খ্রিস্টাব্দ, ৩০ লাখ বাসিন্দা, ১৫ মিটার চওড়া নালা, ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!