📌 পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে শব্দদূষণের নতুন চার উৎস শনাক্ত হয়: বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, হ্যান্ড মাইকের ব্যবহার এবং চিকিৎসকদের ঘোষণা। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক গোলচত্বরেই সর্বোচ্চ ১২৯.৪ ডেসিবেল শব্দমাত্রা রেকর্ড করা হয়
পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ জরিপে শব্দদূষণের নতুন চারটি উৎস সনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, ভিক্ষুক ও হকারদের হ্যান্ড মাইকের ব্যবহার এবং চিকিৎসকদের চেম্বারের ঘোষণা। এসব উৎস থেকে সৃষ্ট অতিরিক্ত শব্দ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে শব্দদূষণের **নতুন চার উৎস** শনাক্ত: বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, হ্যান্ড মাইকের ব্যবহার এবং চিকিৎসকদের ঘোষণা
- 📌 **৬৪টি জেলা শহরে** পরিচালিত জরিপে শব্দদূষণের **২৫টি প্রধান উৎস** চিহ্নিত, যার মধ্যে রয়েছে যানবাহনের চলাচল, হর্ন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ডিজে সাউন্ডবক্স, সামাজিক অনুষ্ঠান, নির্মাণকাজ ও শিল্পকারখানা
- 📌 **ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক গোলচত্বর**ে সর্বোচ্চ **১২৯.৪ ডেসিবেল** শব্দমাত্রা রেকর্ড, যা পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান থেকে অনেক বেশি
- 📌 **সচিবালয়, আগারগাঁও, জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এলাকা**কে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হলেও, গবেষণায় এসব এলাকায় **৯৭.৬৩ ডেসিবেল** শব্দমাত্রা পাওয়া যায়, যা অনুমোদিত সীমার **দ্বিগুণ**
- 📌 শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে **অভিযোগ হটলাইন চালু**, মাইক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ, ধীরগতির যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ হর্ন আমদানি বন্ধের সুপারিশ করা হয়
📰 বিস্তারিত
২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দেশের ৬৪টি জেলা শহরে ‘শব্দের মাত্রা পরিমাপ’ শীর্ষক জরিপ পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। জরিপে শব্দদূষণের প্রধান ২৫টি উৎস চিহ্নিত করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের চলাচল, হাইড্রোলিক ও সাধারণ হর্ন, যানজট, মাইকিং, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দিবস উদযাপন, ডিজে সাউন্ডবক্স, ভিআইপি গাড়ির হর্ন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের গাড়ির সাইরেন। পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠান, হুটার, নির্মাণকাজ, বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রমও শব্দদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়।
জরিপে দেখা যায়, আবাসিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিশ্রিত এলাকায় যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে শব্দের মাত্রা বেশি। ঢাকার শংকর, ধানমন্ডি, শ্যামলী মোড়ে এবং ইংলিশ রোড, নবাবপুর, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, শান্তিনগর এলাকায়ও শব্দদূষণ বেশি। পরিবেশ অধিদপ্তর বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর আশপাশের এলাকা, আগারগাঁও, জাতীয় সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের গবেষণায় এসব এলাকায় অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি শব্দের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
গবেষণায় সচিবালয় এলাকায় শব্দের গড় মাত্রা **১০০.১৭ ডেসিবেল** এবং সর্বোচ্চ মাত্রা **১২৭ ডেসিবেল** পাওয়া যায়। জাতীয় সংসদ এলাকায় গড় শব্দের মাত্রা **৯৯.৩৫ ডেসিবেল**। চারটি এলাকার মধ্যে তুলনামূলক কম শব্দের মাত্রা ছিল আগারগাঁওয়ে—গড়ে **৭৮.১১ ডেসিবেল**। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান অনুযায়ী, নীরব এলাকায় দিনে শব্দের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা **৫০ ডেসিবেল** এবং রাতে **৪০ ডেসিবেল**।
"শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালু করা এবং মাইক ব্যবহারের সময়সীমা আইন অনুযায়ী নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ধীরগতির যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ হর্ন আমদানি বন্ধেরও দাবি করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার যাত্রাবাড়ী (শহীদ ফারুক গোলচত্বর), শংকর, ধানমন্ডি, শ্যামলী, ইংলিশ রোড, নবাবপুর, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, শান্তিনগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরিদ আহমেদ (পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪টি জেলা, ২৫টি উৎস, ১২৯.৪ ডেসিবেল, ৯৭.৬৩ ডেসিবেল, ৫০ ডেসিবেল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!