📌 খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা সাত মাসের প্রায় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে
খুলনায় ডেঙ্গু মহামারির ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে অর্থাৎ ১ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৭৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অথচ গত সাত মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র ৭৯৬ জন। শুধু তাই নয়, এই দুই সপ্তাহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আগস্টের প্রথম সাত দিনে ভর্তি হন ২২৮ জন ডেঙ্গু রোগী
- 📌 পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ভর্তি হন আরও ৫৪৬ জন
- 📌 জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ভর্তি হন ৭৯৬ জন, মৃত্যু হয় সাতজনের
- 📌 আগস্টের দুই সপ্তাহে মৃত্যু হয় চারজনের
- 📌 হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে, অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে মোট ৭৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ৯৭ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় মৃত্যু হয় সাতজনের। আর চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন ৬৯২ জন। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করে। আগস্টের প্রথম সাত দিনে ভর্তি হন ২২৮ জন। পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ভর্তি হন আরও ৫৪৬ জন। ফলে দুই সপ্তাহেই ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৬৪ জন, যা সাত মাসের প্রায় সমান।
হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দোতলায় করিডরজুড়ে রোগীদের ভিড়। জায়গার সংকটে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মেডিসিন ইউনিটের বারান্দাতেও একই চিত্র। ডেঙ্গু রোগীদের আলাদাভাবে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তাঁরা। ডেঙ্গু কর্নারও রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে।
হাসপাতালের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাপ্রধান মো. হামিদুল ইসলাম খান বলেন, ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডের মাত্র ১৫টি শয্যা থাকলেও তা ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে। ওই ওয়ার্ডের বাইরেও রোগী রাখতে হচ্ছে। এতে কিছুটা ঝুঁকি থাকে। তবে রোগীরা এসব বুঝতে চাচ্ছেন না। রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনটি টিম গঠন করেছে। নিয়মিত কর্মসূচির পাশাপাশি ক্রাশ প্রোগ্রাম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল এবং অপরিচ্ছন্ন বাড়ি ও স্থাপনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাসপাতাল থেকে পাওয়া ডেঙ্গু রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে নগরের ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান খান জানান, ২২, ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। অন্যদিকে ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২৪ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে অরেঞ্জ জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি জানান, আগামী তিন মাসের জন্য মশকনিধনের ওষুধ মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত ওষুধ কেনার জন্য টেন্ডার করে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান শুরু হয়েছে, যা ১৫ দিন চলবে। ক্রাশ প্রোগ্রামও চলমান রয়েছে।
"ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. হামিদুল ইসলাম খান, আনিসুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৬৪ জন (আগস্টের দুই সপ্তাহে ভর্তি), ৭৯৬ জন (সাত মাসে ভর্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!