📌 মানুষের মস্তিষ্কের জৈবিক প্রতিক্রিয়া, অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা ও সামাজিক চাপের কারণে নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে ছাড়া যায় না। বাংলাদেশে ৭৬ শতাংশ নারী অন্তরঙ্গ সঙ্গীর নির্যাতনের শিকার হলেও অভিযোগ করেন মাত্র ৬২ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ মিনিটে এক নারী নিহত হন
মানুষের মস্তিষ্কের জৈবিক প্রতিক্রিয়া, অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা ও সামাজিক চাপের কারণে নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে ছাড়া যায় না। একই ছাদের নিচে বসবাস করলেও মানুষের মধ্যে মানসিক সম্পর্কের পতন ঘটে। প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা হয় না, খাওয়ার সময়ও আলাদা হয়ে যায়। এমনকি শারীরিক সম্পর্কেও ভাটা পড়ে। কিন্তু কেন মানুষ এই সম্পর্কে থেকে যায়? কারণটি জটিল—ট্রমা বন্ডিং, ডুবন্ত খরচের ভ্রান্তি এবং আন্তঃপ্রজন্মগত ট্রমা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ট্রমা বন্ডিং**: নির্যাতকরা সচেতনভাবে অতিরিক্ত ভালোবাসা, নিষ্ঠুরতা এবং আবার ভালোবাসার চক্রে মস্তিষ্কে ডোপামিনের অনিশ্চিত ঝলক তৈরি করে, যা জুয়ার মতো শক্তিশালী। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ১৮ জন নির্যাতিত নারী এই বন্ধনের শিকার ছিলেন।
- 📌 **ডুবন্ত খরচের ভ্রান্তি**: সম্পর্কে যত সময়, শ্রম ও আবেগ দেওয়া হয়, ছাড়ার সিদ্ধান্ত তত কঠিন হয়। বাংলাদেশে ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার নির্যাতনের শিকার হলেও ৬২ শতাংশ অভিযোগ করেননি।
- 📌 **সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা**: ৪৯ শতাংশ নারী গত এক বছরে নির্যাতিত হলেও ৪৮.৫ শতাংশ জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে। ২.২ শতাংশ নারীই অভিযোগ কেন্দ্র (ওসিসি) সম্পর্কে জানেন।
- 📌 **বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি**: প্রতি ১০ মিনিটে এক নারী নিহত হন অন্তরঙ্গ সঙ্গীর হাতে। বিশ্বে ৭৩.৬ কোটি নারী (প্রতি তিনজনে একজন) জীবনে অন্তত একবার শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার।
📰 বিস্তারিত
মানুষের মস্তিষ্কের জৈবিক প্রতিক্রিয়া নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে ছাড়ার পথ বন্ধ করে দেয়। মনোবিজ্ঞানী ডক্টর ম্যাগস লেসিয়াকের গবেষণায় দেখা গেছে, নির্যাতকরা সচেতনভাবে অতিরিক্ত ভালোবাসা, নিষ্ঠুরতা এবং আবার ভালোবাসার চক্রে মস্তিষ্কে ডোপামিনের অনিশ্চিত ঝলক তৈরি করে। এই প্রক্রায়কে বলা হয় অনিশ্চিত পুরস্কার বা ইন্টারমিটেন্ট রিইনফোর্সমেন্ট। এটি জুয়ার আসক্তির মতোই শক্তিশালী। যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে রিচার্ড হেলসের বিরুদ্ধে মামলায় ভিকটিম আদালতে বলেছিলেন, ‘তুমি আমাকে বোঝালে যে ভালোবাসা মানে ব্যথা সহ্য করা এবং যাই হোক না কেন, সব সহ্য করে শেষ পর্যন্ত পাশে লেগে থাকা।’
ডুবন্ত খরচের ভ্রান্তি বা সাংক কস্ট ফ্যালাসি সম্পর্কে যত সময়, আবেগ ও শ্রম দেওয়া হয়, ছাড়ার সিদ্ধান্ত তত কঠিন হয়। বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ১৫ বছর নির্যাতনমূলক বিবাহে থাকার পর লিখেছিলেন, ‘নির্যাতন খুব কমই সহিংসতা দিয়ে শুরু হয়। শুরু হয় ভালোবাসা দিয়ে। তীব্রতা, প্রতিশ্রুতি, ধীরে ধীরে নির্ভরতা গড়ে ওঠা দিয়ে।’ অন্যদিকে, বলিউড তারকা রতী অগ্নিহোত্রী ৩০ বছর সহ্য করে বলেছিলেন, ‘আমি মনে মনে ভাবতাম, আমি ৫৪ বছরের এক নারী, আর আমি কেবল আরও বৃদ্ধ ও দুর্বল হব… আর একদিন মার খেতে খেতে মারা যাব।’
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট এই বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। ২০২৫ সালের ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার অন্তরঙ্গ সঙ্গীর নির্যাতনের শিকার। ৬২ শতাংশ কখনো অভিযোগ করেননি, ৪৯ শতাংশ গত এক বছরে নির্যাতিত, এবং ৪৮.৫ শতাংশ জানেন না কোথায় অভিযোগ করতে হবে। অভিযোগ কেন্দ্র (ওসিসি) সম্পর্কে জানেন মাত্র ২.২ শতাংশ। অর্থনৈতিক কারণে উপার্জনকারী নারীরা ২৮ শতাংশ বেশি নির্যাতনের শিকার হন। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৪ শতাংশ মাদকাসক্ত স্বামী স্ত্রীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন।
"নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নির্যাতকের প্রতি টান পড়া কোনো নিষ্ক্রিয় ট্রমা-প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি নির্যাতনকারীর আচরণের ফল, যেখানে প্রথমে অতিরিক্ত ভালোবাসা, তারপর নিষ্ঠুরতা, আবার ভালোবাসায় ফেরার চক্রে মস্তিষ্কে ডোপামিনের অনিশ্চিত ঝলক তৈরি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডক্টর ম্যাগস লেসিয়াক, সেলিনা জেটলি, রতী অগ্নিহোত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ জন নারী, ৭৬ শতাংশ, ৬২ শতাংশ, ৪৯ শতাংশ, ২.২ শতাংশ, ৭৩.৬ কোটি নারী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!