📌 ১৯৫১ সালে আয়ারল্যান্ডের একজন ব্যবসায়ী এক ফসকে যাওয়া গুলির মাধ্যমে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ধারণা পেয়েছিলেন। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণে ছিল ১৯৮টি রেকর্ড। বইটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং রেকর্ডের নিয়মকানুন প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৫১ সালের নভেম্বর মাসের এক শীতের সকালে আয়ারল্যান্ডের ওয়েক্সফোর্ড কাউন্টিতে স্ল্যানি নদীর ধারে শিকারের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়লেন স্যার হিউ বিভার। কিন্তু গুলি ফসকে গেল। সেই মুহূর্তে তাঁর মাথায় এলো এক প্রশ্ন: ইউরোপের শিকারযোগ্য পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ওড়ার রেকর্ড কে ধরে রাখে? এই তর্কের মীমাংসা করার জন্য তিনি একটি বিশ্ব রেকর্ড বইয়ের ধারণা নিয়ে আসেন, যা মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক কমাতে এবং বিয়ার পান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। এভাবেই জন্ম নিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ভাবনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৫১ সালে স্যার হিউ বিভার এক ফসকে যাওয়া গুলির মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড বইয়ের ধারণা পেয়েছিলেন গিনেস ব্রুয়ারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে।
- 📌 গিনেস নামটি আসে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৭৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গিনেস ব্রুয়ারির নাম থেকে, যা ৯ হাজার বছরের জন্য ইজারা নেওয়া হয়েছিল।
- 📌 ১৯৫৪ সালে গিনেসের কর্মী ক্রিস্টোফার চ্যাটাওয়ে যমজ ভাই নরিস ও রস ম্যাকওয়ার্টারকে বইটি তৈরির দায়িত্ব দেন।
- 📌 লন্ডনের ফ্লিট স্ট্রিটে বসে তারা পুরোনো বই, বিশ্বকোষ ও বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করে।
- 📌 ১৯৫৫ সালের ২৭ আগস্ট প্রকাশিত প্রথম সংস্করণে ছিল ১৯৮টি রেকর্ড। বইটি বাজারে আসার পরই ব্রিটেনের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় শীর্ষে উঠে।
- 📌 গিনেস রেকর্ডের শর্ত: সংখ্যা বা পরিমাপের মাধ্যমে মাপা যেতে হবে, ভাঙা যেতে হবে, এবং নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে।
📰 বিস্তারিত
স্যার হিউ বিভার ছিলেন গিনেস ব্রুয়ারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি এক ফসকে যাওয়া গুলির মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত ওড়ার পাখি সম্পর্কে তর্কের মীমাংসা করার জন্য একটি বিশ্ব রেকর্ড বইয়ের ধারণা নিয়ে আসেন। তিনি মনে করলেন, এমন একটি বই থাকলে মানুষের মধ্যে তর্ক কমবে এবং বিয়ার পানও বৃদ্ধি পাবে। গিনেস নামটি আসে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৭৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গিনেস ব্রুয়ারির নাম থেকে। সেই ব্রুয়ারির ইজারা চুক্তির মেয়াদ ছিল ৯ হাজার বছর।
১৯৫৪ সালে গিনেসের কর্মী ক্রিস্টোফার চ্যাটাওয়ে যমজ ভাই নরিস ও রস ম্যাকওয়ার্টারকে বইটি তৈরির দায়িত্ব দেন। তারা লন্ডনের ফ্লিট স্ট্রিটের একটি ছোট ঘরে বসে কাজ শুরু করেন। পুরোনো বই, বিশ্বকোষ, গবেষণাপত্র এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে তারা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করেন। কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ১৯৫৫ সালের ২৭ আগস্ট প্রকাশিত হলো দ্য গিনেস বুক অব রেকর্ডসের প্রথম সংস্করণ। বইটিতে ছিল ১৯৮টি পৃষ্ঠা এবং ১৯৮টি রেকর্ড।
বইটি বাজারে আসার পর পাঠকদের মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। বড়দিনের আগেই ব্রিটেনের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় শীর্ষে উঠে। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রেও প্রকাশিত হলো বইটি। বইটি পৌঁছে গেল ঘরে ঘরে এবং সবারই জানতে ইচ্ছা করে পৃথিবীর বিভিন্ন রেকর্ড সম্পর্কে।
গিনেস রেকর্ডের শর্তগুলো হলো: রেকর্ডের পেছনে একটি সংখ্যা বা পরিমাপ থাকতে হবে, রেকর্ড ভাঙা যেতে হবে, এবং নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। ‘সবচেয়ে সুন্দর’ বা ‘সবচেয়ে ভালো’ ধরনের রেকর্ড গিনেস গ্রহণ করে না, কারণ এগুলোকে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিয়ে মাপা যায় না। তবে ‘এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি স্কিপিং’ রেকর্ড গ্রহণ করে, কারণ এটি গুনে দেখা সম্ভব।
"গিনেসের কাছে রেকর্ড মানে এমন কিছু, যা মাপা যায়, যার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা করা যায় এবং যা অন্য কেউ ভাঙার চেষ্টা করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আয়ারল্যান্ড (ওয়েক্সফোর্ড কাউন্টি), লন্ডন (ফ্লিট স্ট্রিট)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: স্যার হিউ বিভার, নরিস ম্যাকওয়ার্টার, রস ম্যাকওয়ার্টার, ক্রিস্টোফার চ্যাটাওয়ে
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ হাজার বছর (ইজারা মেয়াদ), ২৭ আগস্ট (প্রকাশন তারিখ), ১৯৮টি রেকর্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!