📌 বাংলাদেশের হাম হাম জলপ্রপাতের দুর্গম পথে মাঠ জরিপে প্রাণিবিদ তানিয়া খান ও মুনির খানের স্মৃতিতে সবুজ জলপ্রপাত ব্যাঙের সন্ধান দিতে গিয়ে অভিযানকারীরা ৫-৬ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে। ২০১২ সালে এই জলপ্রপাতে প্রথম ব্যাঙের সন্ধান পেয়েছিলেন তারা, কিন্তু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের প্রকল্পে অংশ নিয়ে অভিযানকারীরা জলপ্রপাতের পাদদেশে পৌঁছান।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার-সিলেটের মিশ্র চিরহরিৎ বনাঞ্চলে অবস্থিত হাম হাম জলপ্রপাতের পথে যাত্রা করা মাত্রই বুঝতে পারা যায় যে, এই পথ অতিক্রমের জন্য শুধু সাহসই যথেষ্ট নয়—ধৈর্য, শারীরিক শক্তি এবং নিজের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াইয়ের দরকার। পাহাড়ের ওপরে থেকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার উচ্চতা থেকে পাথুরে খাদে জলধারা নেমে আসা এই জলপ্রপাতের পথে ৫-৬ কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়। পিচ্ছিল মাটি, পাথুরে ছড়া এবং গভীর অরণ্য পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় এই জলপ্রপাতের কাছে, যেখানে পাহাড়ের ওপরের বৃষ্টির পানি মাটি ও গাছের শিকড়ে সঞ্চিত হয়ে ধীরে ধীরে ছড়ায় ফিরে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হাম হাম জলপ্রপাত** বাংলাদেশের একটি পাহাড়ি জলাধার, যেখানে শুষ্ক মৌসুমেও জলপ্রবাহ সম্পূর্ণ থেমে যায় না
- 📌 **২০১২ সালে** প্রাণিবিদ **তানিয়া খান** ও বন বিভাগের কর্মকর্তা **মুনির খান** এই জলপ্রপাতে **সবুজ জলপ্রপাত ব্যাঙ** (গ্রিন কাসকেড ফ্রগ) প্রথম সন্ধান পান, কিন্তু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি
- 📌 **২০২৬ সালের আগস্টে** বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের **প্রাণিকুলের রেডলিস্ট হালনাগাদকরণ প্রকল্প**ের অংশ হিসেবে জলপ্রপাতে মাঠ জরিপে ১৪ জন অভিযানকারী অংশ নেন
- 📌 **পাহাড়ি পথে** ২০০ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করতে গিয়ে অভিযানকারীরা পিচ্ছিল মাটি ও পাথুরে ছড়ায় পড়ে যান, কিন্তু স্থানীয় গাইড ও সহকারী তাদের সাহায্য করে
- 📌 **জলপ্রপাতের পাদদেশে** পৌঁছানোর পর অভিযানকারীরা দেখেন, পাহাড় থেকে প্রবল বেগে পানি পড়ছে এবং চারপাশে তার গর্জন শোনা যায়
📰 বিস্তারিত
হাম হাম জলপ্রপাতের নাম শুনে অনেকেই অপূর্ণ স্বপ্নের গল্পের কথা মনে করবেন। প্রাণিবিদ **তানিয়া খান** ও তাঁর স্বামী **মুনির খান** ২০১২ সালে এই জলপ্রপাতে **সবুজ জলপ্রপাত ব্যাঙ** (Odorrana livida) সন্ধান পান। তবে তাদের পর্যবেক্ষণ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রকাশিত না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। পরে ২০২১ সালে **হাসান, রহমান, সাহা, সিদ্দিক ও দত্ত** হারপেটোলজি নোটস জার্নালে এই প্রজাতির প্রথম বৈজ্ঞানিক নথি প্রকাশ করেন।
২০২৬ সালের আগস্টে **বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের** পৃষ্ঠপোষকতায় এবং **আইইউসিএন** (প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট) এর সহায়তায় **প্রাণিকুলের রেডলিস্ট হালনাগাদকরণ প্রকল্প** বাস্তবায়িত হয়। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে **মৌলভীবাজার ও সিলেটের** মিশ্র চিরহরিৎ বনাঞ্চল এবং হাম হাম জলপ্রপাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রথম মাঠ জরিপে **১৪ জন** অভিযানকারী, **৭ জন** বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, **২ জন** মাঠ সহকারী এবং **২ জন** স্থানীয় গাইডসহ যাত্রা শুরু করেন। লক্ষ্য ছিল প্রজাপতি, উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ব্যাঙ সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা।
পাহাড়ের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয় **১৪ আগস্ট** থেকে। **কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগান** থেকে জলপ্রপাতের দিকে এগোতে গিয়ে প্রায় **২০০ মিটার উচ্চতা** অতিক্রম করতে হয়। পাঁচ-ছয়টি ছোট পাহাড় অতিক্রম করতে গিয়ে বর্ষায় পলিমাটিময় ঢালু অংশ অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। পর্যটক ও গাইডদের চলাচলের পথই একমাত্র ভরসা। অভিযানকারীদের মধ্যে একজন **৭৮ কেজি** ওজনের ব্যক্তি **৫ কেজি ক্যামেরা ও ৫০০ মিমি টেলিলেন্স** বহন করছিলেন। পথের শুরুতেই স্থানীয় ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে **১০ টাকা** দিয়েই **বাঁশের লাঠি** কিনে নেওয়া হয়, যা পরে তাদের ‘তৃতীয় পা’ হয়ে দাঁড়ায়।
পাহাড়ের শেষ **৫০-৬০ মিটার** খাড়া ও ভেজা ঢালটি ছিল সবচেয়ে কঠিন। একসময় একজন অভিযানকারী পা পিছলে ছড়ার পাথুরে তলদেশে গড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েন। কিন্তু **মাঠ সহকারী রফিক** (যিনি বহু বছর আগে তানিয়া-মুনিরের সঙ্গেও এখানে এসেছিলেন) এবং **মাঠ ব্যবস্থাপক সুলতান** তাদের ধরে রাখেন। শেষের **৫০০-৬০০ মিটার** পাথুরে ছড়া পেরিয়ে পৌঁছান জলপ্রপাতের কাছে। যেখানে জলধারা গর্জন করে এবং চারপাশে তার গর্জন শোনা যায়।
"পাহাড়ের সঙ্গে যুদ্ধ ১৪ আগস্ট থেকে শুরু হয়। পাঁচ-ছয়টি ছোট পাহাড় অতিক্রম করতে গিয়ে বর্ষায় পলিমাটিময় ঢালু অংশ অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে ওঠে। পর্যটক ও গাইডদের চলাচলের পথই একমাত্র ভরসা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাম হাম জলপ্রপাত, মৌলভীবাজার (কমলগঞ্জ উপজেলা, কুরমা চা-বাগান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রাণিবিদ তানিয়া খান, মুনির খান, রফিক, সুলতান, হাসান রহমান সাহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫-৬ কিলোমিটার পথ, ৫০-৬০ মিটার উচ্চতা, ১৪ জন অভিযানকারী, ৭ জন বন কর্মকর্তা, ২০০ মিটার পাহাড়ি অঞ্চল, ৫০০-৬০০ মিটার পাথুরে ছড়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!