📌 গবেষণা বলছে, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ট্রান্সফ্যাট ও কীটনাশকযুক্ত শাকসবজি নিয়মিত খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা এসব খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন
গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবদেহে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো কারসিনোজেন নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক যৌগ। বিশেষ কিছু খাবারে উপস্থিত এসব যৌগ দেহের ডিএনএ পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রক্রিয়াজাত মাছ-মাংসে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার ফলে হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন নামক কারসিনোজেন যৌগ তৈরি হয়
- 📌 ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, তেলেভাজা বিস্কুটসহ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার উচ্চ তাপে ভাজলে অ্যাক্রিলামাইড নামক কারসিনোজেন উৎপন্ন হয়
- 📌 ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ চিপস, শিঙাড়া, পেঁয়াজু, পিৎজা ও বার্গারের মতো ফাস্ট ফুড দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়
- 📌 প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত নাইট্রেট ও নাইট্রাইটসযুক্ত সসেজ, হ্যাম ও হটডগসহ প্রক্রিয়াজাত মাংসে উচ্চ তাপে কারসিনোজেন গঠিত হয়
- 📌 তামাকজাত পণ্য ও কীটনাশকযুক্ত শাকসবজি নিয়মিত গ্রহণ করলে মুখ, ফুসফুস ও পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়
- 📌 নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে শরীরে অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি হয়, যা পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়
📰 বিস্তারিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারসিনোজেন হলো এমন সব রাসায়নিক যৌগ যা মানবদেহের কোষের ডিএনএ পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। এসব যৌগ বিভিন্ন ধরনের খাবার, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ও অণুজীবের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা খাবারগুলোতে এ ধরনের যৌগের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
প্রক্রিয়াজাত মাছ-মাংস উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার সময় হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস ও পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন নামক কারসিনোজেন যৌগ তৈরি হয়। এসব যৌগ কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। একইভাবে, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস ও তেলেভাজা বিস্কুট উচ্চ তাপে ভাজলে অ্যাক্রিলামাইড নামক কারসিনোজেন উৎপন্ন হয়। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে পরিপাকতন্ত্র ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার যেমন চিপস, শিঙাড়া, পেঁয়াজু, পিৎজা ও বার্গারের মতো ফাস্ট ফুড দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি করে। এ ধরনের প্রদাহ মানবদেহে কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চমাত্রায় ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ কলোরেক্টাল, ওভারিয়ান ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
"প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত নাইট্রেট ও নাইট্রাইটসযুক্ত খাবার উচ্চ তাপের সংস্পর্শে কারসিনোজেন গঠন করে, যা পাকস্থলীর ক্যানসারে ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।"
তামাকজাত পণ্য ও কীটনাশকযুক্ত শাকসবজিও ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তামাকের ধোঁয়ায় উৎপন্ন নাইট্রোসামিন মুখ ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে, কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হেভি মেটাল ও অর্গানোফসফেটযুক্ত শাকসবজি নিয়মিত খেলে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে শরীরে অ্যাসিটালডিহাইড তৈরি হয়, যা পরিপাকতন্ত্র ও লিভারের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ইকবাল হোসেন (জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: কারসিনোজেন যৌগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য নয়, তবে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর যৌগের উপস্থিতি রয়েছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!