📌 বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের ৭০% কারণ খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ। ষষ্ঠ জাতীয় কারিগরি সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের জন্য আইন, গবেষণা ও সমন্বয় বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন
বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ হিসেবে খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশের ঝুঁকি উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয় এবং প্রাণ হারায় প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজিত ষষ্ঠ জাতীয় কারিগরি সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই ঝুঁকির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের জন্য আইনের কার্যকর প্রয়োগ, গবেষণা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয় বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৬ সালের সমীক্ষায়: প্রতিবছর ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়, প্রাণ হারায় ১৫ লাখ ২০ হাজার
- 📌 বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের ৭০% মৃত্যুর কারণ খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ
- 📌 কৃষকদের মধ্যে অত্যধিক ঘাম, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা নিত্যদিনের — গবেষণায় পাওয়া গেছে
- 📌 সেমিনারে ‘ফুড সেফটি সুশাসন’ বিষয়ে আলোচনা: নীতি, বিজ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে নেতৃত্বদান
- 📌 কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ: বন্দরে কীটনাশক পরীক্ষা চালু, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও রপ্তানি মানদণ্ডে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব ডিম দিবস ও বিশ্ব খাদ্য দিবস–২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে রোববার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজন করে ষষ্ঠ জাতীয় কারিগরি সেমিনার। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফুড সেফটি সুশাসন: নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য নীতি, বিজ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে নেতৃত্বদান’। অনুষ্ঠানে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিএসএসএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সেমিনারে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক মো. ওয়াকিলুর রহমান ‘কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন ভিত্তি’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতিবছর ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয় এবং প্রাণ হারায় প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের মৃত্যুর ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী খাদ্যে ভেজাল।
ওয়ার্কশপে আলোচনা করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি ঝুঁকিভিত্তিক নিয়মিত নজরদারি ও পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জসীম উদ্দীন কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরেন এবং উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি (‘ফার্ম টু ফর্ক’) কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যবিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাকৃবির অধ্যাপক কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফুড সেফটিতে কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও ভোক্তাদের সমন্বয়ে একটি ঝুঁকিভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, আইনের অভাব নেই, কিন্তু প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে। তিনি সমন্বয় বৃদ্ধি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি তুলে ধরেন।
"বিশ্বে প্রতিবছর ৮৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়। বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের ৭০ শতাংশের কারণ খাদ্যে ভেজাল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অধ্যাপক মো. ওয়াকিলুর রহমান, অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক জসীম উদ্দীন, অধ্যাপক কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির, অধ্যাপক সঙ্গীতা আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৬ কোটি ৬০ লাখ (অসুস্থ), ১৫ লাখ ২০ হাজার (মৃত্যু), ৭০ শতাংশ (অসংক্রামক রোগের মৃত্যু), ৯ জনে ১ জন (অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!