📌 হাইকোর্টের আপিল বিভাগ ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সরকারের আপিল মঞ্জুর করে। ২০১২ সালের আগে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকুরিকাল গণ্য হবে
হাইকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিষয়ে একটি দীর্ঘদিনের বিতর্কের সমাধান হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ গত ২ জুলাই সরকারের আপিল মঞ্জুর করে এবং রোববার (২৫ অক্টোবর) ২৯ পৃষ্ঠার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এই রায়ের ফলে প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা দূরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ২০১৩ সালের জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের ওপরে থাকবে।
- 📌 ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা গণনার ক্ষেত্রে তাদের পূর্বের ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকুরিকাল গণ্য হবে।
- 📌 ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি চাকুরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- 📌 হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ, যা ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর অনুমোদিত হয়।
- 📌 জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকুরিকাল তাদের পদোন্নতি, পেনশন, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
📰 বিস্তারিত
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা পাবে। এই রায়ের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে তাদের পূর্বের অর্জিত ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকুরিকাল গণ্য হবে। আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ কার্যকর চাকুরিকাল তাদের পদোন্নতি, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়, যা ওই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এই বিধিমালার ৯(১) বিধিতে জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট আবেদন করা হয়। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে ৯(১) বিধির ‘এবং ওই তারিখের অব্যবহিত পূর্বে নিয়োগবিধির অধীন শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে ওই শিক্ষকের অবস্থান নির্ধারণ করা হবে’ অংশটুকু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়।
আদালতে আপিলকারী পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে, রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।
"জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের অতীত চাকুরিকালকে ‘কার্যকর চাকুরিকাল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকার তাঁদের জ্যেষ্ঠতা গণনার সুযোগ দিয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে; কোনো বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতার কারণে নয়। তবে ২০১৩ সালের বিধিমালার ৪ বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষকদের নিয়োগের তারিখ থেকে সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা প্রদান করার ক্ষেত্রে সরকার তাঁদের অতীত চাকুরিকাল সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করতে পারত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ পৃষ্ঠা, ৩২ হাজার, ২০১২, ২০১৩, ৫০ শতাংশ, ২৬ হাজার ১৯৩টি, ২৯ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!