📌 প্রাথমিক শৈশব বিকাশে মাত্র ৭ শতাংশ বাবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারছে না বাংলাদেশ। জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৩০ শতাংশ শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না। গর্ভধারণ থেকে এক হাজার দিনকে শিশুর বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
বাংলাদেশে প্রাথমিক শৈশবকালীন যত্ন ও বিকাশের ক্ষেত্রে বাবাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাত্র ৭ শতাংশ বাবা শিশুর যত্ন নেন। জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৩০ শতাংশ শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ ঘটছে না। শিশুর বিকাশ সম্পর্কিত এসব তথ্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রাথমিক শৈশব বিকাশে মাত্র ৭ শতাংশ বাবার অংশগ্রহণ
- 📌 দেশের ৩০ শতাংশ শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ ঘটছে না
- 📌 গর্ভধারণ থেকে এক হাজার দিনকে শিশুর বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 দুই থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না
- 📌 দরিদ্র শ্রেণির শিশুদের মধ্যে বিকাশের হার ৩৮ শতাংশ, ধনী শ্রেণিতে ২০ শতাংশ
- 📌 তিন বছরের মধ্যে শিশুর ৮০ শতাংশ বিকাশ সম্পন্ন হয়
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা: শুরুতে ৮৯০, শেষে ১ হাজার ১৯ জন
📰 বিস্তারিত
‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে সমন্বিত প্রারম্ভিক শৈশবকালীন যত্ন ও বিকাশ সেবার মূল্যায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভধারণের তিন সপ্তাহ পর থেকে স্থায়ীভাবে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন শুরু হয়ে যায়। গর্ভধারণ থেকে এক হাজারতম দিনকে শিশুর বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সময়ে শিশুর সঙ্গে ইতিবাচক আচরণ, কথাবার্তা ও খেলাধুলা করলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি পায়।
কর্মশালায় উপস্থিত ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালা আহমাদজাই বলেন, বাংলাদেশে দুই থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না। দরিদ্র শ্রেণির শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৮ শতাংশ, যেখানে ধনী শ্রেণিতে তা ২০ শতাংশ। অর্থাৎ দুই শ্রেণির মধ্যে বিকাশের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী শেখ জামাল হোসেন জানান, মায়ের পর শিশুদের সবচেয়ে বেশি যত্ন নেন দাদি-নানি। তাঁদের কাছ থেকে ৫৬.৭৯ শতাংশ শিশু সেবা পায়। ভাইবোনের কাছ থেকে সেবা পায় ১৬.০৫ শতাংশ শিশু। চাচির কাছ থেকে সেবা পায় ১০.২১ শতাংশ শিশু।
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলায়। গবেষণায় মোট ৮৯০ শিশুর তথ্য সংগ্রহ শুরু হলেও শেষ পর্যায়ে এসে অংশগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৯ জন। গবেষণার সময়কাল ছিল ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
"গর্ভধারণ থেকে এক হাজার দিন শিশুর বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে স্নেহ, মায়া, মমতা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদান করা জরুরি। স্কুল বা পরবর্তী কোনো বয়সে বিনিয়োগের চেয়ে এই সময়ে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ফল নিয়ে আসে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মালালা আহমাদজাই (ইউনিসেফ), শেখ জামাল হোসেন (আইসিডিডিআরবি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ শতাংশ, ৩০ শতাংশ, ৩৮ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৮০ শতাংশ, ৮৯০ জন, ১ হাজার ১৯ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!