📌 আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ আট বছরের অনুসন্ধানের পর পঞ্চগড় থেকে মাউন্ট এভারেস্টের বিরল দৃশ্য ধারণ করেছেন। ২৬ অক্টোবর ২০২৬ সালে অনুকূল আবহাওয়ায় তিনি মাটিতে দাঁড়িয়ে এবং ড্রোনের মাধ্যমে এভারেস্টের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন
বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের পঞ্চগড় থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বিরল দৃশ্য ধারণ করেছেন আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ। আট বছরের অপার অনুসন্ধানের পর ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি মাটিতে দাঁড়িয়ে এবং ড্রোনের মাধ্যমে এভারেস্টের ছবি ও বিস্তৃত পর্বতশ্রেণির ভিডিও ধারণ করেছেন। দৃশ্যটি কল্পনার মতো মনে হলেও, অনুকূল আবহাওয়ায় পঞ্চগড়ের আকাশসীমা থেকে এভারেস্টের শিখর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ অক্টোবর ২০২৬ পঞ্চগড় থেকে মাউন্ট এভারেস্টের বিরল দৃশ্য ধারণ করেছেন আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ।
- 📌 ২৬০ থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরত্বের পর্বতশৃঙ্গকে খালি চোখে দেখা সম্ভব হয়েছে বিরল আবহাওয়াগত পরিস্থিতিতে।
- 📌 ফিরোজ আল সাবাহের অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল ২০১৮ সাল থেকে, যখন তিনি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
- 📌 ২০২২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু এবারের দৃশ্যমানতা ছিল সর্বোচ্চ।
- 📌 ড্রোনের সাহায্যে বিস্তৃত পর্বতশ্রেণির ভিডিও ধারণ করেছেন তিনি, যা এভারেস্টের দৃশ্যমানতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের পঞ্চগড় থেকে মাউন্ট এভারেস্টের বিরল দৃশ্য ধারণের পেছনে রয়েছে আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহের আট বছরের অপার অনুসন্ধান। তিনি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ এবং দূরবর্তী দৃশ্যের অনুসন্ধানে আগ্রহী। ২০১৮ সালে তিনি একটি প্রশ্নের জন্ম দেন: যদি পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়, তাহলে এভারেস্ট কেন না? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে তিনি উচ্চতা, দূরত্ব এবং পৃথিবীর বক্রতার হিসাব-নিকাশ শুরু করেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চগড় থেকে এভারেস্ট দেখা সম্ভব, তবে এর জন্য দীর্ঘ দূরত্ব পর্যন্ত পরিষ্কার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন।
অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল মাঝখানের অন্যান্য পর্বতশ্রেণি। পঞ্চগড় থেকে এভারেস্টের দূরত্ব ২৬০ থেকে ২৭০ কিলোমিটার। এত দূরের পর্বতকে দেখতে হলে মাঝখানের পুরো দৃষ্টিপথ পরিষ্কার থাকতে হয়। ফিরোজ প্রথমে ড্রোনের সাহায্যে উঁচুতে উঠে এভারেস্ট খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন। ২০১৯ সালে ড্রোনের মাধ্যমে শৃঙ্গটির সম্ভাব্য উপস্থিতি শনাক্ত করেন, কিন্তু ছবি এতটা স্পষ্ট ছিল না। ২০২২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যান এবং পঞ্চগড় সদরের একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে এভারেস্টের ছবি ধারণ করেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর সংশয় ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসে।
২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর সকালে অনুকূল আবহাওয়ায় পঞ্চগড় থেকে এভারেস্টের দৃশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফিরোজের ভাষায়, দুই দিন এমন দৃশ্যমানতা পেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি যে জিনিসটা দেখছি, সেটাকে অন্য কেউ অস্বীকার করলেই তো আর সেটা মিথ্যা হয়ে যায় না।’ এভারেস্টের দৃশ্যমানতা পাওয়ার পেছনে রয়েছে বিরল আবহাওয়াগত পরিস্থিতি। সাধারণত বর্ষা বিদায় নেওয়া এবং শীতের আগমনের মধ্যবর্তী সময়ে বাতাসের ধুলাকণা কমে গেলে দূরের দৃশ্য দেখার সুযোগ বাড়ে। ফিরোজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উত্তর দিক থেকে হিমালয় অঞ্চলের শুষ্ক বাতাস প্রবাহিত হলে বায়ুমণ্ডল তুলনামূলক পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
"আমি যে জিনিসটা দেখছি, সেটাকে অন্য কেউ অস্বীকার করলেই তো আর সেটা মিথ্যা হয়ে যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পঞ্চগড়, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬০-২৭০ কিলোমিটার (পঞ্চগড় থেকে এভারেস্টের দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!