📌 ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৯০টিতে খেলার মাঠ রয়েছে। ২৫২টি বিদ্যালয়ে (৭৩ শতাংশ) খেলার মাঠের অভাবের পাশাপাশি শিক্ষক সংকট, স্যাঁতসেঁতে শ্রেণীকক্ষ এবং অবকাঠামোগত সংকটে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকরা সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানোর আগ্রহ হারাচ্ছেন
ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৭৩ শতাংশে খেলার মাঠের অভাবের পাশাপাশি শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সংকট এবং স্যাঁতসেঁতে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান চলছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও শারীরিক-মানসিক বিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানোর আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৯০টিতে (২৬ শতাংশ) খেলার মাঠ রয়েছে; বাকি ২৫২টি (৭৩ শতাংশ) বিদ্যালয়ে মাঠের অভাব
- 📌 জায়গাস্বল্পতা ও অবকাঠামোগত সংকটে শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ১-৬ জন
- 📌 মিরপুরের ৩৯টি, সূত্রাপুরের ২১টি ও গুলশানের ১৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ১০ জনেরও কম
- 📌 শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৫১ (নয়ানগর রফিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে), যেখানে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ লক্ষ্য ছিল ১:৩০
- 📌 অভিভাবকরা সরকারি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোকে উপযুক্ত মনে না করায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্তান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন
- 📌 শিক্ষক সংকটের কারণে একাধিক শ্রেণীর পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব একক শিক্ষকদের উপর পড়ছে
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা পরিবেশে ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৯০টিতে খেলার মাঠ রয়েছে। অর্থাৎ ২৫২টি (৭৩.৭ শতাংশ) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। জায়গাস্বল্পতা, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষকসংকটও একটি বড় সমস্যা। সূত্রাপুরের ৩৯টি, মিরপুরের ২১টি ও গুলশানের ১৮টি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ১০ জনেরও কম। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা এতটাই কম যে একাধিক শ্রেণীর পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব একক শিক্ষকদের উপর পড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক এবং আ. মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। মিরপুরের নয়ানগর রফিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০৬ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ছয়জন শিক্ষক রয়েছে, যার ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৫১। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল।
অভিভাবকদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানোর আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আতিয়া সুলতানা বলেন, ‘বাসার কাছে সরকারি বিদ্যালয় থাকলেও এর পরিবেশ উপযুক্ত মনে হয়নি। সেখানে মাঠ ছিল না। সন্তানের পর্যাপ্ত বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।’ অভিভাবক অর্ণব মাহমুদও সন্তানকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়ার বিষয়ে আগ্রহী নন। তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও পরিবেশগত সুযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে চাই।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবকদের নেতিবাচক ধারণা ভুল। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ‘অনেক অবস্থাসম্পন্ন অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করেন। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও ফলাফলও ভালো। শিক্ষকসংকটের সমাধান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
"অনেক অবস্থাসম্পন্ন অভিভাবক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করেন। অথচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও ফলাফলও ভালো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর (সূত্রাপুর, মিরপুর, গুলশান, বাংলাবাজার, নয়ানগর)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আতিয়া সুলতানা, অর্ণব মাহমুদ, খায়রুন নাহার লিপি, মো. রিপন (তুহিনের পিতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯০টি মাঠবিশিষ্ট, ২৫২টি মাঠহীন, ৭৩.৭ শতাংশ মাঠহীন, ৩০৬ শিক্ষার্থী/৬ শিক্ষক (১:৫১ অনুপাত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!