📌 যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাথায় ১০ মিনিট বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নারীকে পণ্য হিসেবে দেখার মানসিকতা সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়, যা যৌন অবজেক্টিফিকেশনের বিরুদ্ধে নতুন পথ খুলে দিয়েছে
যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা একটি বিপ্লবী গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে, মাথায় হালকা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নারীকে পণ্য হিসেবে দেখার মানসিকতা সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব। ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটারের পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, মাথার খুলির ওপরে ১০ মিনিট ধরে মৃদু তড়িৎ উদ্দীপনা প্রয়োগ করার ফলে নারীদের যৌন আবেদনময় ছবিকে ‘বস্তু’ হিসেবে দেখার প্রবণতা কমে যায়। গবেষণা সাময়িকী সোশ্যাল নিউরোসায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং বিজ্ঞানীদের সামনে মনস্তাত্ত্বিক পক্ষপাত বোঝার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাথায় ১০ মিনিট বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নারীকে পণ্য হিসেবে দেখার মানসিকতা পরিবর্তন সম্ভব
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়, পুরুষ ও নারীর ছবি চেনার পার্থক্য দূর হয়
- 📌 ৫৪ জন নারী ও ২২ জন পুরুষ অংশগ্রহণকারীকে পরীক্ষা করা হয়, তাদের মধ্যে ১০ মিনিটের বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পেয়েছে ৭৬ জন
- 📌 গবেষকরা বলেছেন, এটি সামাজিক সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান নয়, তবে মস্তিষ্কের অবজেক্টিফিকেশন প্রক্রিয়া বোঝার নতুন উপায়
📰 বিস্তারিত
মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীকে ‘বস্তু’ হিসেবে দেখার প্রবণতা একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা। বিজ্ঞানীরা এই প্রবণতাকে ‘যৌন অবজেক্টিফিকেশন’ বলে অভিহিত করেন। সাধারণত, মস্তিষ্ক কোনো মানুষের মুখাবয়ব বা শরীর সোজা অবস্থায় দেখলে তা দ্রুত চিনতে পারে। কিন্তু ছবিটি উল্টো করে দিলে চিনতে সময় লাগে। তবে নারীদের যৌন আবেদনময় ছবির ক্ষেত্রে এই পার্থক্য কমে যায়—মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে সেই নারীকে ‘বস্তু’ হিসেবে ধরে নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাথার স্ক্যাল্পে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল দেওয়ার ফলে অংশগ্রহণকারীদের নারীদের সোজা ছবি চেনার ক্ষমতা উন্নত হয়েছে এবং পুরুষ-নারী ছবি বিশ্লেষণের বৈষম্য দূর হয়েছে।
গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক চিরো সিভিলে বলেন, ‘যৌন অবজেক্টিফিকেশন মানে হলো মানুষকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে না দেখে কেবল ব্যবহারের বস্তু হিসেবে বিবেচনা করা। এটি সবচেয়ে বেশি শিকার হন নারীরা। আমাদের গবেষণা প্রমাণ করে, মস্তিষ্কে মৃদু উদ্দীপনা দিয়ে এই পক্ষপাত সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে এটি কোনো সামাজিক সমস্যার সমাধান নয়—এটি মস্তিষ্কের কাজ বোঝার একটি নতুন উপায়।’
গবেষণায় ৫৪ জন নারী ও ২২ জন পুরুষ অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্বাস পরিহিত নারী ও পুরুষ মডেলদের সোজা ও উল্টো ছবি দেখানো হয়। তাদেরকে আগের ছবিগুলো শনাক্ত করতে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়: প্রথম দলকে ১০ মিনিট ধরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়, দ্বিতীয় দলকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য ভুয়া চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, বৈদ্যুতিক শক পেয়েছে এমন দলের অংশগ্রহণকারীরা নারীদের সোজা ছবি দ্রুত চিনতে সক্ষম হয় এবং পুরুষ-নারী ছবি চেনার পার্থক্য দূর হয়। অন্যদিকে, ভুয়া চিকিৎসা পেয়েছে এমন দলের অংশগ্রহণকারীরা নারীদের ছবি চেনার ক্ষেত্রে বস্তুর ছবি চেনার মতোই সমস্যা অনুভব করেন।
"যৌন অবজেক্টিফিকেশন মানে হলো মানুষকে পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি হিসেবে না দেখে কেবল ব্যবহারের বস্তু হিসেবে বিবেচনা করা। এটি সবচেয়ে বেশি শিকার হন নারীরা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাজ্য, ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক চিরো সিভিলে, গবেষণা দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ জন নারী, ২২ জন পুরুষ, ১০ মিনিট বৈদ্যুতিক শক, ৩০ সেকেন্ড ভুয়া চিকিৎসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!