📌 হামের টিকা ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর গবেষণা প্রকাশ পায় যে, ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে টিকার কার্যকারিতা দেখা যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সরকারকে নতুনভাবে ভাবতে বলছেন
হামের টিকা দেওয়া সত্ত্বেও ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) গড়ে ওঠেনি। এই তথ্য প্রকাশ করেছে একটি গবেষণা, যা দেশের হাম–রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়ে দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা ও টিকাদান ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৭.৫ শতাংশ শিশুর শরীরে হামের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি** — গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০৯ জন শিশুর মধ্যে ৮৫ জনের শরীরে কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি।
- 📌 **৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের তুলনায় ১৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠার হার বেশি** — তবে সফলতার হারও কম।
- 📌 **২০৩ জন শিশুর (৬৫.৭%) শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে** — বাকি ২১ জনের (৬.৮%) শরীরে অ্যান্টিবডি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে।
- 📌 **টিকা কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে** — গবেষণায় দেখা গেছে, এক ডোজ টিকা দিলেও যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠেনি।
- 📌 **টিকা ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরও হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি** — ২০২৬ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া টিকা ক্যাম্পেইন শেষ হয় ২০ মে, কিন্তু সংক্রমণ থামেনি।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে হাম–রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়। এই ক্যাম্পেইনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। ক্যাম্পেইন শেষ হয় ২০ মে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু পাঁচ মাস পরেও হামের সংক্রমণ থামেনি। এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করার দাবি জানিয়েছিলেন।
আইইডিসিআরের নেতৃত্বে এই গবেষণায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার ছয়টি উপশহর ও গ্রাম এলাকার ৩০৯ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের তুলনায় ১৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠার প্রবণতা বেশি। তবে সফলতার হারও কম। গবেষণায় আরও দেখা যায়, টিকার কার্যকারিতা শিশুর বয়সের সাথে সম্পর্কিত। ৬ মাস বয়সে টিকা দিলে ৫০ শতাংশ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে পারে, ৯ মাস বয়সে ৮৫ শতাংশ এবং ১২ মাস বয়সে ৯০ শতাংশ। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যে এই হার অনেক কম।
গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের টিকা পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা হয় টিকা কার্ড দেখে এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে। তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, ২০৩ জন শিশুর (৬৫.৭%) শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ২১ জনের (৬.৮%) শরীরে অ্যান্টিবডি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। কিন্তু ৮৫ জন শিশুর (২৭.৫%) শরীরে কোনো অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি।
"টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে গবেষণা দরকার। টিকা ও টিকাদান ব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে নতুনভাবে ভাবতে হবে।"
গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীরা বলছেন, টিকার মান যাচাই করার ব্যবস্থা নেই। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ব্যবহৃত টিকার মান যাচাই করা হয় না। টিকা–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত টিকা ব্যবহার করা হলেও, এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সিগঞ্জ জেলার গ্রাম ও উপশহর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিশু (৩০৯ জন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭.৫% (অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি), ৩০৯ (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিশু), ২০৩ (অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!