📌 আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে চলমান ১৭তম বিশ্ব প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পাভেল পার্থ বলেছেন, মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক নীতিগুলি প্রকৃতির ক্ষয়ক্ষতির দিকে পরিচালিত করছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বনেতারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করছেন
বিশ্বের প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে চলমান ১৭তম বিশ্ব প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পাভেল পার্থ বলেছেন, মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক নীতিগুলি প্রকৃতির ক্ষয়ক্ষতির দিকে পরিচালিত করছে। ১৯ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনের প্রধান বিষয়বস্তু হলো বন, জলাভূমি, দ্বীপ, সমুদ্র, উপকূল এবং পাহাড়ি প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৯২ সালের ব্রাজিলের রিও ধরিত্রী সম্মেলনে গৃহীত ‘প্রাণবৈচিত্র্য সনদ’ (সিবিডি) অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন।
- 📌 ২০২২ সালের কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক (কেএমজিবিএফ) ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতিমুখী জীবনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য ৪টি দীর্ঘমেয়াদী ও ২৩টি স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- 📌 লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে অন্তত ৩০ শতাংশ স্থল ও জলাভূমি এবং সমুদ্র বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণ, ৩০ শতাংশ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বছরে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।
- 📌 ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে ৫৮টি তাপানুলি ওরাংওটাং নিহত হওয়ার মতো ঘটনা বিশ্বব্যাপী প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশের পাহাড়ি ঢল, বন্যা, খরা বা বন্যপ্রাণী অগ্নিকাণ্ডের কারণে হারানো প্রাণপ্রজাতির সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
📰 বিস্তারিত
আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে চলমান ১৭তম বিশ্ব প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী পাভেল পার্থ বলেছেন, ‘প্রকৃতির জন্য তৎপরতা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লিডার্স ফর নেচার সামিট’, কার্টেজেনা প্রটোকলের ১২তম এবং নায়োগা প্রটোকলের ষষ্ঠতম সভা এবং মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের সভা।
পাভেল পার্থ উল্লেখ করেছেন, ১৯৯২ সালের ব্রাজিলের রিও ধরিত্রী সম্মেলনে গৃহীত ‘প্রাণবৈচিত্র্য সনদ’ (সিবিডি) অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন। ২০২২ সালের কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক (কেএমজিবিএফ) ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতিমুখী জীবনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য ৪টি দীর্ঘমেয়াদী ও ২৩টি স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে অন্তত ৩০ শতাংশ স্থল ও জলাভূমি এবং সমুদ্র বাস্তুতন্ত্রের কার্যকরভাবে সংরক্ষণ, দখল ও ক্ষয় থেকে ৩০ শতাংশ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে বছরে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহ এবং আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতকরণের কথা বলা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে বিশ্বনেতারা বরাবরই অঙ্গীকার ভঙ্গ করছেন।
পাভেল পার্থ বলেছেন, প্রতিদিন বিশ্বের কোনো না কোনো বাস্তুতন্ত্র থেকে নিখোঁজ হচ্ছে প্রাণপ্রজাতি। যুদ্ধ, অস্ত্রবাণিজ্য, অন্যায় খাদ্যব্যবস্থা, দখল, ডিজিটাল উপনিবেশ, দূষণ এবং নিওলিবারেল নীতিগুলি এই গ্রহকে বৈচিত্র্যহীন করে তুলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে ৫৮টি তাপানুলি ওরাংওটাং নিহত হওয়ার মতো ঘটনা বিশ্বব্যাপী প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশের পাহাড়ি ঢল, বন্যা, পাহাড়ধস, উত্তরাঞ্চলের খরা বা প্রাকৃতিক বনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে হারানো প্রাণপ্রজাতির সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, একটি পাখি বা মাছ, সরীসৃপ বা উভচর, নদী বা বন, গাছ বা পতঙ্গের জীবন কি জীবন–মরণের যন্ত্রণা নিয়ে পরের সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করবে?
"২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বনেতারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করছেন। প্রতিদিন বিশ্বের কোনো না কোনো বাস্তুতন্ত্র থেকে নিখোঁজ হচ্ছে প্রাণপ্রজাতি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইয়েরেভান (আর্মেনিয়া), ঢাকা (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পাভেল পার্থ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭তম সম্মেলন, ১৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর, ১২তম কার্টেজেনা প্রটোকল সভা, ২৩টি লক্ষ্য, ৩০ শতাংশ, ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ৫৮টি ওরাংওটাং
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!