📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনের পারস্পরিক আস্থা ও সহানুভূতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধনকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর নতুন ১৫ তলা ভবন-২-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি হলো চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনের মধ্যে আস্থা ও সহানুভূতির সম্পর্ক ব্যতীত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর
- 📌 রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন ভবন-২-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অবকাঠামো ও প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ ও সুশাসন জরুরি
- 📌 প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জন্য ই-হেলথ কার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে
- 📌 প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘চিকিৎসা সেবার গুণগত মানোন্নয়নে চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই তিনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন কিংবা রোগী ও রোগীর স্বজনরা যদি চিকিৎসকের ওপর বিশ্বাস এবং মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে আমরা যতই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না।’
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর নতুন ১৫ তলা ভবন-২-এর শুভ উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন শেষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, আজ ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে আরো এক ধাপ এগিয়েছি।’
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যেই হাসপাতালটির নতুন ভবনের উদ্বোধন হলো, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরো আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে আজ এই হাসপাতাল আকার আয়তনে আরো বড় রূপ ধারণ করলো।’
চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। সহানুভূতিশীল আচরণ, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা চিকিৎসার মানকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে চিকিৎসা সেবা ও পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার দায়-দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়, এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসা কেবল শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগী যাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে না এসেও চিকিৎসা পান, সেজন্য ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে।’
‘আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫শ’, ১৫ তলা, ২৩ অক্টোবর, ১৫১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!