📌 রাজশাহীর তানোর উপজেলার দমদমা গ্রামে গৃহবধূ হাসিনা খাতুনের মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পাওয়া গেছে। স্বামী সাজু সরদার (৩৭) পলাতক। পরিবার দাবি করে, যৌতুক নির্যাতনের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে
রাজশাহীর তানোর উপজেলার দমদমা গ্রামে গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় হাসিনা খাতুন তার মাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মা, আমার ওপর গজব চলছে’। এর সাড়ে তিন ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে হাসিনার মরদেহ শোয়ার ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পাওয়া যায়। পরিবার জানায়, ঘটনার পরই মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে বাবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাসিনা খাতুন (৩৭) রাজশাহীর তানোর দমদমা গ্রামে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 স্বামী সাজু সরদার (৩৭) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
- 📌 পরিবার দাবি করে, যৌতুক নির্যাতনের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে।
- 📌 বিয়ের পর থেকে সাতবার নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ময়নাতদন্তে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, কিন্তু নতুন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
- 📌 পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। হত্যার আলামত পাওয়া গেলে মামলা হবে।
- 📌 বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫০০ টাকা। এর মধ্যে ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
হাসিনা খাতুনের মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পাওয়া গেলে পরিবার জানায়, তাঁর পা মাটিতে ঠেকে ছিল এবং ঘরের দরজাও খোলা ছিল। শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবার দাবি করে, নির্যাতনের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। হাসিনার বাবা মতিউর রহমান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমার মেয়ে তাঁর মাকে ফোন করে বলে—মা, আমার ওপর গজব চলছে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে আমরা খবর পাই, মেয়ের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।’
মতিউর রহমান আরও জানান, ‘মামলা করার জন্য থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী মামলা হবে। পুলিশ মামলা না নিলে আমরা আদালতে হত্যা মামলা করব।’
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ‘সুরতহালের সময় মরদেহের শরীরে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। নতুন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তারপরও আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে এলে থানায় মামলা হবে।’
পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকে সাজু সরদার হাসিনাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। দুই বছরের দাম্পত্য জীবনে অন্তত সাতবার নির্যাতনের পর হাসিনাকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হতো। যৌতুক হিসেবে হাসিনার বাবার কাছ থেকে নগদ লক্ষাধিক টাকা ও গরুও নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
"মা, আমার ওপর গজব চলছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহীর তানোর উপজেলা, দমদমা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাসিনা খাতুন (মৃত), সাজু সরদার (পলাতক), মতিউর রহমান (বাবা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: বিয়ের দেনমোহর ১ লাখ ৫০০ টাকা, পরিশোধ ৫০০ টাকা, নির্যাতনের ঘটনা ৭ বার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!