📌 ঢাকায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলেও মশা নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কার্যকারিতা কম। তিন দশকে দুই সিটি করপোরেশনের ব্যয় এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা হলেও মশার উপদ্রব থামছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল পদ্ধতি ও দুর্নীতির কারণে কার্যক্রম ব্যর্থ হচ্ছে।
ঢাকায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও মশা নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও কার্যকারিতা কম দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ জন হলেও এর মধ্যে ৩২ জনই রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৭০ জনের মধ্যে ৩২ জনই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার
- 📌 আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশেষজ্ঞদের
- 📌 ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের চার বছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় ৫৪১ কোটি টাকা
- 📌 তিন দশকে দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণে মোট ব্যয় এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা
- 📌 মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ ও পদ্ধতির কারণে মশার ওষুধ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)—মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও কার্যকারিতা কম দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। এর মধ্যে ৩২ জনই রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকার। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের চার বছরের ব্যয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় হয়েছে ৫৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএনসিসির ব্যয় ৩৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং ডিএসসিসির ব্যয় ১৫৫ কোটি টাকা।
তিন দশকে দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণে মোট ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ওষুধ কেনা ও প্রয়োগে ব্যয় হয়েছে ৭৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যয় হয়েছে ৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৫০৬ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।
মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু কীটনাশক ছিটানো ও ওষুধ কেনার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি জানান, বছরের পর বছর একই ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মশার মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে।
"মশা নিয়ন্ত্রণে পুরো একটি আলাদা ইউনিট গঠন করা যেত, যেখানে পরিকল্পনাবিদ, বায়োলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞরা থাকতেন। শুধু ওষুধনির্ভর পদ্ধতিতে থাকলে সামনে ভোগান্তি আরও বাড়বে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ জন, ৩২ জন, ৫৪১ কোটি টাকা, এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!