📌 ডেঙ্গু ভাইরাসের চরিত্র পরিবর্তনের কারণে এখন লক্ষণবিহীন মৃদু জ্বরই বেশি দেখা যাচ্ছে। জ্বর কমে যাওয়ার পরই শুরু হয় ক্রিটিক্যাল ফেইজ, যেখানে প্লাটিলেট কমে যাওয়া ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জ্বর কমলেও তিন দিন পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে
ডেঙ্গু ভাইরাসের চরিত্র পরিবর্তনের ফলে এখন এর উপসর্গ আগের মতো স্পষ্ট নয়। আগে তীব্র জ্বর, হাড়ে ব্যথা ও লালচে র্যাশ দেখা যেত, কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই তা অনুপস্থিত থাকে। ফলে রোগীরা নিজেদের ডেঙ্গু আক্রান্ত বলে বুঝতেও পারেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনকার ডেঙ্গু ‘ছদ্মবেশী’ হয়ে উঠেছে, যা শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডেঙ্গু ভাইরাস এখন আগের মতো স্পষ্ট উপসর্গ দেখাচ্ছে না, ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে
- 📌 জ্বর কমে যাওয়ার পরই শুরু হয় ক্রিটিক্যাল ফেইজ, যেখানে হৃৎস্পন্দন দুর্বল ও রক্তচাপ কমে যায়
- 📌 গবেষণায় দেখা যায়, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু প্রায় লক্ষণবিহীন থাকে
- 📌 জ্বর কমার পর তিন দিন পর্যন্ত প্লাটিলেট কাউন্ট নিয়মিত চেক করতে হবে
- 📌 নতুন চরিত্রের ডেঙ্গুতে লিভার, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র বা মস্তিষ্ক দ্রুত আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
ডেঙ্গু ভাইরাস তার চরিত্র পরিবর্তন করেছে কয়েক বছর ধরে। এখন এটি আগের মতো তীব্র জ্বর, হাড়ে ব্যথা বা লালচে র্যাশের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে না। অনেক সময় রোগীরা সামান্য জ্বর বা গা ম্যাজম্যাজ করাকেই সাধারণ অসুস্থতা মনে করছেন। ফলে ডেঙ্গু শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে। ডা. ইমনুল ইসলাম, অধ্যাপক, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় জানান, জ্বর কমে যাওয়ার পরই আসলে বিপদের শুরু হয়। এই সময়কে বলা হয় ক্রিটিক্যাল ফেইজ। এ সময় হৃৎস্পন্দন দুর্বল হয়ে পড়ে, রক্তচাপ কমে যায় এবং রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু প্রায় লক্ষণবিহীন থাকে। ফলে রোগীরা নিজেদের অসুস্থতা সম্পর্কে অবগত হন না। জ্বর কমার পর তিন দিন পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এই সময়েই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। নতুন চরিত্রের ডেঙ্গুতে লিভার, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র বা মস্তিষ্ক দ্রুত আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। উপসর্গ হিসেবে জ্বরের ওঠানামা, হৃদ্যন্ত্রের অস্বাভাবিক গতি, তীব্র পেটব্যথা, জন্ডিস, পাতলা পায়খানা, খিঁচুনি বা অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
ডেঙ্গুর চার ধরনের ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে — ডেন ১, ২, ৩ ও ৪। একাধিক ধরনে আক্রান্ত হলে শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অনেক সময় পরীক্ষায় ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি শনাক্ত না হলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। ফলে পালস, রক্তচাপ ও প্লাটিলেট কমে যাওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
"ডেঙ্গু এখন আগের মতো স্পষ্ট উপসর্গ দেখাচ্ছে না। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হচ্ছে এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে। জ্বর কমার পর তিন দিন পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. ইমনুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!