📌 কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতার সন্ধান পাওয়ায় বিজ্ঞানীদের আশাবাদ বাড়েছে। গবেষণায় এছাড়াও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতার সন্ধান পাওয়ায় বিজ্ঞানীদের বন্য প্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশাবাদ জাগিয়েছে। গবেষণায় এছাড়াও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। গত ১৩ মাসের গবেষণায় এই আবিষ্কারটি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতার সন্ধান পাওয়ায় বিজ্ঞানীদের আশাবাদ বাড়েছে।
- 📌 ১৫টি ক্যামেরায় ৩২টি স্থান পর্যবেক্ষণে মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি ধরা পড়েছে।
- 📌 ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে রয়েছে উল্টোলেজি বানর, মুখপোড়া হনুমান, বনবিড়াল, চিতা বিড়ালসহ অন্যান্য বিরল প্রজাতি।
- 📌 ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর আয়তনের উদ্যানের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টর এলাকায় মেঘলা চিতার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
- 📌 বন অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গেটিনয়েন এই গবেষণায় অংশ নিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন বনে মেঘলা চিতার সন্ধান পাওয়ায় বিজ্ঞানীদের নতুন আশাবাদ জাগিয়েছে। গত মাসের শুরুতে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশনে’ এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন মেঘলা চিতাকে মহাবিপন্ন হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশে এটি মহাবিপন্ন হলেও বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
কক্সবাজার ছিল এক সময়ের সমৃদ্ধ বনাঞ্চল। কিন্তু গত এক দশকে রোহিঙ্গাদের বসতি, রেললাইন নির্মাণ ও বনভূমির জবরদখল বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য হ্রাস করেছে। ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো মেঘলা চিতার সন্ধান পাওয়ায় বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা নতুন আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় শুধু মেঘলা চিতাই নয়, উল্টোলেজি বানর, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর, বনবিড়াল, চিতা বিড়ালসহ আরও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর সন্ধান মিলেছে।
২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩ মাস ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণায় অংশ নিয়েছে বন অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গেটিনয়েন। বন অধিদপ্তরের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস বলেছেন, ইনানী জাতীয় উদ্যানের আয়তন ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। এখানে ১৫টি ক্যামেরায় ৩২টি স্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ক্যামেরায় মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি ধরা পড়েছে।
বন অধিদপ্তরের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস জানান, বনের জলাশয় ও পানির প্রবাহে বন্য প্রাণীদের উপস্থিতি বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, মেঘলা চিতার উপস্থিতি প্রমাণ করে ইনানী জাতীয় উদ্যানে এখনো সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র রয়েছে। উদ্যানের ৭ হাজার ৮৫ হেক্টরের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টর এলাকায় মেঘলা চিতার উপযোগী বনাঞ্চল রয়েছে, যা উদ্যানের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
"মেঘলা চিতা খুবই বিরল একটি বন্য প্রাণী। ইনানীর বনে এটির উপস্থিতি বন্য প্রাণী সংরক্ষণে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। সরকারের উচিত মেঘলা চিতার বসবাসের এলাকাকে চিহ্নিত করে বিশেষভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া। এখানে কাঠ আহরণ বন্ধ ও বসতি থাকলে সরিয়ে নেওয়া।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইনানী জাতীয় উদ্যান, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিপুল কৃষ্ণ দাস (বন অধিদপ্তরের পরিচালক), রেজা খান (বন্য প্রাণী গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ প্রজাতি, ১৩ মাস, ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর, ১৫টি ক্যামেরা, ৩২টি স্থান, ৩ হাজার ৮৮৭ হেক্টর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!