📌 উইপোকা কাঠ ও কাগজ খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। গাইবান্ধা থেকে চীন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উইপোকা টাকা ও নথি নষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ধাতব বা প্লাস্টিকের বাক্সে নথি রাখা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করলে উইপোকা আক্রমণ এড়ানো যায়
উইপোকা কাঠ ও কাগজ খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। গাইবান্ধার এক কৃষকের জমানো দুই লাখ টাকা উইপোকা ও ইঁদুরের আক্রমণে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেই কৃষকের আহতির চিত্র দেখা যায়। তবে এই ধরনের ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয় — বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও উইপোকা গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ও নথি নষ্ট করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **গাইবান্ধা থেকে চীন পর্যন্ত** বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উইপোকা টাকা ও নথি নষ্ট করেছে। ২০১৬ সালে ভারতের লক্ষ্ণৌতে ব্যাংকের সুরক্ষিত কক্ষে রাখা এক কোটি রুপি উইপোকা নষ্ট করে ফেলে।
- 📌 **উইপোকা কাঠের সেলুলোজ খেয়ে** বই, কাগজ, পাসপোর্ট, উইল ও করসংক্রান্ত নথি আক্রমণ করে। কাঠের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
- 📌 **চীনের গুয়াংডং প্রদেশে** এক নারীর সন্তানদের থেকে পাওয়া ৪ লাখ ইউয়ান উইপোকা খেয়ে নষ্ট করে। টাকাগুলো কাঠের ড্রয়ারে রাখা ছিল।
- 📌 **উইপোকা আর্দ্রতা পছন্দ করে** — দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে থাকলে ঘরে প্রবেশ করে। মাটির সঙ্গে কাঠের সংস্পর্শ এড়াতে বাড়ির চারপাশে পুরোনো আসবাব ফেলে রাখা ঠিক নয়।
- 📌 **গুরুত্বপূর্ণ নথি ধাতব বা প্লাস্টিকের বাক্সে রাখলে** উইপোকা আক্রমণ এড়ানো যায়। বইয়ের তাক পরিষ্কার রাখা ও অপ্রয়োজনীয় কাগজ জমিয়ে রাখা এড়ানো উচিত।
📰 বিস্তারিত
উইপোকা সাধারণত কাঠের সেলুলোজ খায়, কিন্তু কাগজের নোট, বই, কার্ডবোর্ড ও পুরোনো চিঠিও তাদের প্রধান খাদ্য। গাইবান্ধার কৃষকের ঘটনাটি শুধু স্থানীয় নয় — বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উইপোকা অর্থ ও নথি নষ্ট করেছে। ২০১৬ সালে ভারতের লক্ষ্ণৌতে স্টেট ব্যাংকের শাখায় সুরক্ষিত কক্ষে রাখা এক কোটি রুপি উইপোকা নষ্ট করে ফেলে। ২০১৩ সালে চীনের গুয়াংডং প্রদেশে এক নারীর সন্তানদের উপহার হিসেবে পাওয়া ৪ লাখ ইউয়ান কাঠের ড্রয়ারে রাখা ছিল। ছয় মাস পর দেখেন, টাকাগুলো উইপোকা খেয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
উইপোকা কাঠের ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করলে বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফলে বাড়িতে রাখা টাকা, পাসপোর্ট, উইল বা করসংক্রান্ত নথি উইপোকা আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধাতব বা প্লাস্টিকের বাক্সে নথি রাখলে উইপোকা আক্রমণ এড়ানো যায়। এছাড়াও, বাড়িতে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা, কাঠের আসবাব নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় কাগজ জমিয়ে রাখা এড়ানো উচিত।
উইপোকা বনভূমির জন্য গুরুত্বপূর্ণ — তারা মৃত গাছ খেয়ে মাটির গুণগত মান বজায় রাখে। তবে বাড়িতে উইপোকা আক্রমণ এড়াতে কাঠের সঙ্গে মাটির সংস্পর্শ এড়ানো, দেয়ালের স্যাঁতসেঁতে থাকা পানি বন্ধ করা এবং বইয়ের তাক পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন।
"কাঠের ওপরের পাতলা স্তরটি অক্ষত থাকে। ফলে বাইরে থেকে আসবাব ঠিক মনে হলেও ভেতরে ক্ষতি চলতে পারে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা (বাংলাদেশ), লক্ষ্ণৌ (ভারত), গুয়াংডং প্রদেশ (চীন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাইবান্ধার কৃষক, ভারতের ব্যাংক কর্মকর্তা, চীনের নারী ও তার সন্তান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ টাকা (গাইবান্ধা), ১ কোটি রুপি (ভারত), ৪ লাখ ইউয়ান (চীন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!