📌 গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুই লেমুর ভারতের ধনী আম্বানি পরিবারের বনতারা চিড়িয়াখানায় উদ্ধার পাওয়ার পর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। প্রাণীগুলোর পরিচয় যাচাইয়ের জটিলতা এবং পাচার মামলায় আটজনের স্বীকারোক্তি সত্ত্বেও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুই রিংটেইলড লেমুর ভারতের ধনী আম্বানি পরিবারের পরিচালিত বনতারা চিড়িয়াখানায় উদ্ধার পাওয়ার পর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই লেমুর দুটি ২০২৫ সালের মার্চে চুরি হওয়ার পর পাচারকৃত হয়ে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জামনগরে পৌঁছেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দুটি লেমুরের পরিচয় যাচাইয়ের জটিলতা**: বাংলাদেশে ফেরানোর জন্য প্রাণীগুলোর শরীরে মাইক্রোচিপ না থাকা, আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর না থাকা এবং ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
- 📌 **পাচার মামলায় আটজনের স্বীকারোক্তি**: মামলায় সন্দেহভাজন আটজনের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
- 📌 **৫ লাখ পাউন্ডে বিক্রি**: চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে পাচারকৃত লেমুর দুটি প্রায় ৪৮ লাখ ভারতীয় রুপি (৫ লাখ ৪ হাজার পাউন্ডে) বিক্রি করা হয়েছিল।
- 📌 **বনতারা চিড়িয়াখানার বিরোধিতা**: প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো বনতারা চিড়িয়াখানাকে সত্যিকারের সংরক্ষণ উদ্যোগ হিসেবে দেখার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
- 📌 **ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া**: বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ প্রাণীগুলোর দেশে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া তিনটি লেমুরের মধ্যে এই দুটি লেমুরকে ২০১৮ সালে শুল্ক বিভাগকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ঢাকার বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। পরে প্রাণীগুলো উদ্ধার করে সাফারি পার্কে নেওয়া হয়। তবে প্রাণীগুলোর শরীরে মাইক্রোচিপ না থাকা, আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর না থাকা এবং ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, বাংলাদেশে এখনো থাকা ওই লেমুরটির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার চেষ্টা করছেন কর্মকর্তারা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া দুই লেমুরের সঙ্গে সেটির রক্তের সম্পর্ক আছে কি না, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া লেমুরগুলোকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারত পাচার করা হয়। সীমান্তের একজন লাইনম্যানের সহায়তায় প্রাণীগুলো ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জামনগরে পৌঁছায়। সেখানে বনতারা বন্যপ্রাণী কেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, একজন নিরাপত্তারক্ষীর সহায়তায় লেমুরগুলো চুরি করা হয়।
বনতারা চিড়িয়াখানার বিরুদ্ধে প্রাণী আমদানির নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্তৃপক্ষের নজরদারির মুখেও পড়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তবে বনতারা এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বনতারা মূলত একটি চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী কেন্দ্র, যা ভারতের শিল্প পরিবার রিলায়েন্সের সহায়তায় পরিচালিত হয়। এশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি বনতারা চিড়িয়াখানার পরিকল্পনা করেছেন।
"আমরা প্রাণীগুলোর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছি। ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা এবং প্রাণীগুলোর দেশে ফেরানোর জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, ঢাকা বিমানবন্দর, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত, জামনগর (ভারত), বনতারা বন্যপ্রাণী কেন্দ্র (গুজরাট, ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুকেশ আম্বানি, অনন্ত আম্বানি, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি কর্মকর্তারা, তদন্তকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২টি লেমুর, ৪৮ লাখ ভারতীয় রুপি, ৫ লাখ ৪ হাজার পাউন্ড, ৩ হাজার ৫০০ একর জমি, ৫ হাজার ডলার (মন্তব্য: রিপাবলিকানদের ভোটারদের প্রতিশ্রুতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!