📌 বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, শিম্পাঞ্জি থেকে মৌমাছি পর্যন্ত অনেক প্রাণী মৌলিক গণনা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, তারা সংখ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে, যোগ-বিয়োগ করতে পারে এবং এমনকি শব্দের সংখ্যা অনুমান করতে পারে
প্রাণীজগতের মধ্যে একটি অদ্ভুত কিন্তু সত্যিকারের গণনা ক্ষমতা লুকিয়ে আছে যা মানুষকে তাদের থেকে আলাদা করে তোলে না। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, অনেক প্রাণী মৌলিক গণনা করতে পারে এবং সংখ্যার পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা তাদের জন্মগত। এই ক্ষমতা তাদের জীবনরক্ষাকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্লেভার হ্যান্স নামের বার্লিনের ঘোড়াটি ১৯শ শতাব্দীতে গণনা করার ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত হলেও পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা দেখান, আসলে এটি ছিল তার তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা — প্রশ্নকারীর মুখের অভিব্যক্তি দেখেই উত্তর বুঝে ফেলত।
- 📌 শিম্পাঞ্জি এবং বানররা চকলেটের সংখ্যা গণনা করতে পারে; ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে তারা বেশি সংখ্যক চকলেটের বাটি বেছে নেয়।
- 📌 রিসাস বানররা কম্পিউটার স্ক্রিনে দ্রুত সংখ্যা গণনা করতে পারে — তাদের দক্ষতা একজন কলেজ শিক্ষার্থীর ৮০ শতাংশের সমান।
- 📌 সিংহরা গর্জনের সংখ্যা অনুমান করে দলের সদস্য ও শত্রুর সংখ্যা মাপে সিদ্ধান্ত নেয়।
- 📌 মৌমাছি অন্তত ৪ পর্যন্ত সংখ্যা গণনা করতে পারে; তারা বাসা থেকে কতটা দূরে এসেছে তা মনে রাখতে পথের ধারে ৪টি চিহ্নের সংখ্যা ব্যবহার করে।
- 📌 গাপ্পি মাছরা বড় ঝাঁকে যোগ দিতে পছন্দ করে — সংখ্যার পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
- 📌 মাত্র তিন দিন বয়সী মুরগির ছানাও কম-বেশি সংখ্যা আলাদা করতে পারে — এই ক্ষমতা জন্মগত বলে মনে করা হয়।
📰 বিস্তারিত
১৯শ শতাব্দীর জার্মানির বার্লিনে ‘ক্লেভার হ্যান্স’ নামের একটি ঘোড়া পুরো পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তার প্রশিক্ষক দাবি করেছিলেন, ঘোড়াটি সাধারণ গণনা করতে পারে। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তর হিসেবে ঘোড়াটি মাটিতে খুর দিয়ে আঘাত করে সংখ্যা বুঝিয়ে দিত। তবে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেন, আসলে ঘোড়াটির কোনো গণনা ক্ষমতা ছিল না। এরা প্রশ্নকারীর মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরের সূক্ষ্ম নড়াচড়া দেখেই বুঝে ফেলত কখন থামতে হবে। এমনকি প্রশ্নকারীরা নিজে উত্তর জানত না এমন প্রশ্নের উত্তরও ঘোড়াটি দিতে পারত না।
বিজ্ঞানীরা পরবর্তীতে দেখেছেন, অনেক প্রাণীই মৌলিক গণনা করতে পারে। বিশেষ করে শিম্পাঞ্জি ও বানরদের মধ্যে এই ক্ষমতা খুব ভালোভাবে দেখা যায়। আশির দশকের শেষের দিকে বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখান, শিম্পাঞ্জিরা দুটি বাটিতে রাখা চকলেটের সংখ্যা গণনা করতে পারে। এরা চোখের নিমেষে সেগুলোর মোট সংখ্যা হিসাব করে ফেলে। তারপর অন্য দুটি বাটির চকলেট যোগ করে, যেটি বেশি সেই বাটিটি বেছে নেয় — প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে তুলনা করে দেখা গেছে, রিসাস বানরদের দক্ষতা তাদের ৮০ শতাংশের সমান। এই বানররা কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে ওঠা নানা জিনিস দ্রুত গুনতে পারে। শুধু দেখেই নয়, শব্দের সংখ্যা শুনেও তারা সংখ্যা অনুমান করতে পারে। কোনো শব্দের আওয়াজ কয়বার হলো, সেই সংখ্যার সঙ্গে মিল রেখে তারা স্ক্রিনের সঠিক আকৃতিটি চিনে নিতে পারে।
সিংহের মধ্যেও এই ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সিংহেরা লাউডস্পিকারে অন্য সিংহের গর্জন শুনে তাদের দলের সদস্য ও শত্রুর সংখ্যা মেপে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। নেকড়ে ও কালো ভালুকের মতো স্তন্যপায়ীদের মধ্যেও কম-বেশি পরিমাণের পার্থক্য বোঝার শক্তি দেখা গেছে।
মৌমাছির বুদ্ধিমত্তা কিন্তু দারুণ। এদের মধ্যে অন্তত ৪ পর্যন্ত সংখ্যা গণনা করার ক্ষমতা রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের গবেষণায় দেখা যায়, মৌমাছিরা বাসা থেকে কতটা দূরে এসেছে তা মনে রাখতে পথের ধারে সর্বোচ্চ ৪টি বস্তু বা চিহ্নের সংখ্যা ব্যবহার করে। গবেষকরা যখন চিহ্নের সংখ্যা বদলে দিলেন, তখন মৌমাছিরা দিক হারিয়ে ফেলত। এমনকি বিন্দুর সংখ্যা দেখেও তারা পরিমাণের পার্থক্য ধরে ফেলতে পারে।
মাছেরাও এই ক্ষমতার অধিকারী। গাপ্পি মাছ সব সময় বড় ঝাঁকে বা বেশি মাছের দলে যোগ দিতে পছন্দ করে — কারণ সংখ্যার পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ক্ষমতা অনেক প্রাণীর জন্মগত। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র তিন দিন বয়সী মুরগির ছানাও কোনটি কম আর কোনটি বেশি তা আলাদা করতে পারে।
"বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সংখ্যা বোঝার এই ক্ষমতা শুধু মানুষের একার নয়। এমনকি প্রাণিজগতের বাইরে, যেমন ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের মতো শিকারি উদ্ভিদও নিজেদের উপায়ে হিসাব করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বার্লিন (জার্মানি), বিজ্ঞানী গবেষণাগার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্লেভার হ্যান্স (ঘোড়া), শিম্পাঞ্জি, রিসাস বানর, মৌমাছি, গাপ্পি মাছ, মুরগির ছানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ, ৮০ শতাংশ, ৪টি, ৩ দিন বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!