📌 চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির সিইও রেদওয়ান রনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা করে বলেছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় হতে পারে। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের পেশাদার কাঠামো, প্রযোজনা ও বিতরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন
চলচ্চিত্র নির্মাণের পেশাদার কাঠামো, প্রযোজনা ও আন্তর্জাতিক বিতরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি। আজ শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে রেইস: সৃজনশীল অংশীদারত্বে নির্মাতা ও প্রযোজক’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রেদওয়ান রনি বলেছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় হতে পারে যদি নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণের পেশাদার কাঠামো গড়ে তোলা যায়।
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘লোকাল ইজ দ্য নিউ গ্লোবাল’ — বাংলাদেশের নিজস্ব গল্পগুলো আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে নতুন হয়ে উঠতে পারে।
- 📌 রাজশাহী শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রেদওয়ান রনি-এর জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্নের শুরুও রাজশাহীতে।
- 📌 তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাতারা প্রযোজকের কাজও করতে হয়, যা সৃজনশীল কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে বাংলা সিনেমার বাজার সম্ভাবনাময়। ‘দম’ সিনেমার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, পেশাদার বিতরণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য আয় সম্ভব।
📰 বিস্তারিত
চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ম্যাজিক লন্ঠন কথামালা’র ১৪তম পর্বে রেদওয়ান রনি চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্নের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্নের শুরু রাজশাহীতে। তাঁর বন্ধু রানার সাথে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করতেন, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রানার মৃত্যু তাঁকে বড় ধাক্কা দেয়। পরে এক শিক্ষকের পরামর্শে তিনি আবার চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে ফিরে আসেন।
রেদওয়ান রনি চলচ্চিত্র নির্মাণে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু করেন ‘ছবিয়াল’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে। তিনি বলেছেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও অভিনয়সহ বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের সমন্বয় ঘটে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছ থেকে খুব বেশি কিছু শেখার নেই। আমি নিজেও এখনো শিখছি। ভুল করতে করতে, ঠকতে ঠকতে এবং প্রতিদিনের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ যতটুকু করেছি, সেটাই আমার অভিজ্ঞতা।’
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও পেশাদার কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর গুরুত্ব দেন রেদওয়ান রনি। তিনি বলেন, শুধু দু-একটি ভালো সিনেমা নির্মাণ করলেই হবে না। একটি শক্তিশালী চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, নির্মাণের পাশাপাশি প্রযোজনা ও বিতরণের ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। একজন প্রযোজকের কাজ শুধু অর্থ বিনিয়োগ করা নয়; চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে নির্মাণ, বিপণন, বিতরণ ও দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রযোজকের ধারণা থাকা দরকার।
"লোকাল ইজ দ্য নিউ গ্লোবাল। আমরা যত বেশি আমাদের শিকড়ের গল্প বলতে পারব, তত বেশি সেটা বৈশ্বিক হয়ে উঠবে।"
রেদওয়ান রনি বলেন, বাংলাদেশের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের গল্পকে চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরলে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের দক্ষতা রয়েছে। এখন প্রয়োজন পেশাদার কাঠামো, বিনিয়োগ, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া সহ বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষাভাষী দর্শক রয়েছে। পেশাদারভাবে বিতরণ করতে পারলে এসব বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য আয় আসতে পারে। তিনি ‘দম’ সিনেমার উদাহরণ দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহে সাতটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। দর্শকের সাড়া পাওয়ার পর দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। তিনি বলেন, এ অভিজ্ঞতা বাংলা সিনেমার বিদেশের বাজারের সম্ভাবনা দেখায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেদওয়ান রনি (চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির সিইও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪তম পর্ব, ৫২টি প্রেক্ষাগৃহ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!