📌 প্রাচীন মিসরের প্রথম রাজবংশের সমাধিক্ষেত্রে সেবকদের মৃত্যুর সময়ের কাছাকাছি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ড. রোজলিন ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বে করা গবেষণায় ৪৬টি খুলির মধ্যে ১৮টিতে প্রাণঘাতী আঘাতের সাক্ষ্য পাওয়া গেছে
প্রাচীন মিসরের রাজকীয় সমাধিস্থাপনায় সেবকদের মৃত্যুর পেছনে নতুন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. রোজলিন ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, রাজাদের মৃত্যুর পর তাদের অনুগত ব্যক্তিদেরও সমাধিস্থ করার আগে হত্যা করা হতো। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ফ্রন্টেয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল আর্কিওলজি’ জার্নালে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিসরের প্রথম রাজবংশের সমাধিক্ষেত্রে ৪৬টি খুলির মধ্যে ১৮টিতে মৃত্যুর সময়ের কাছাকাছি প্রাণঘাতী আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে
- 📌 গবেষকরা ধারণা করেন, আঘাতগুলো সম্ভবত কাঠ বা হরিণের শিংয়ের মতো বস্তু দিয়ে দেওয়া হয়েছিল
- 📌 কিং জের, কিং জেট ও রানি মেরনেইথের সমাধির আশপাশের কবর থেকে এই খুলিগুলো পাওয়া গেছে
- 📌 গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় রাজবংশের শুরুতে এই ধরনের পার্শ্ববর্তী কবরের সংখ্যা দ্রুত কমে যায়
📰 বিস্তারিত
মিসরের আবিদোসের কাছে উম্ম এল-কাবের রাজকীয় সমাধিক্ষেত্রে গবেষণার মূল কেন্দ্র ছিল। এই এলাকায় মিসরের প্রথম রাজবংশের শাসকদের সমাধি ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া-স্থাপনা রয়েছে। এখান থেকে ১৯২০-এর দশকে ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্লিন্ডার্স পেট্রি খনন করেছিলেন রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির কবর। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নারী, সিল বহনকারী কর্মকর্তা, পরিদর্শক ও কারিগর। তবে সে সময় কঙ্কালে আঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় পরবর্তী গবেষকরা এই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ড. ক্যাম্পবেলের গবেষণায় ৪৬টি খুলির মধ্যে ১৮টিতে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি খুলিতে চোখের অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো ক্ষতও লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকের মতে, এসব আঘাত সম্ভবত মৃত্যুর সময়ের কাছাকাছি ঘটেছিল। তবে রাজদণ্ড বা গদার আঘাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং কাঠ বা হরিণের শিংয়ের মতো চওড়া ও সমতল বস্তু দিয়ে আঘাত করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষক ড. রোজলিন ক্যাম্পবেল সতর্ক করে বলেছেন যে, সব সেবককে বলি দেওয়া হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। নমুনাও তুলনামূলকভাবে ছোট। তবে এই ধরনের পার্শ্ববর্তী কবরের সংখ্যা দ্বিতীয় রাজবংশের শুরুতে দ্রুত কমে যায় এবং একসময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে মৃত রাজাদের সেবা করার জন্য জীবিত মানুষকে হত্যা না করে তাঁদের প্রতীকী মূর্তি ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।
"মানববলির ধারণাটি নতুন নয়, তবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই সমাধিগুলোর মানবদেহ পরীক্ষা এই গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।"
মিসরের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালিমা ইকরাম বলেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিসরের আবিদোসের কাছে উম্ম এল-কাবের রাজকীয় সমাধিক্ষেত্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. রোজলিন ক্যাম্পবেল, ফ্লিন্ডার্স পেট্রি, সালিমা ইকরাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬টি খুলি পরীক্ষা করা হয়, ১৮টি খুলিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!