📌 মস্তিষ্কের অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে আলোর মাধ্যমে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তিন বিজ্ঞানীকে ২০২৬ সালের চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই বিপ্লবী অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তি মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে গবেষকদের নতুন সুযোগ খুলেছে
মস্তিষ্কের অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে আলোর মাধ্যমে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার বিপ্লবী প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তিন বিজ্ঞানীকে ২০২৬ সালের চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, এই অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তি মস্তিষ্কের গোপন রহস্য উন্মোচনে গবেষকদের নতুন পথ খুলেছে। বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ তৈরি হয়, তা বোঝার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩ বিজ্ঞানী নোবেল জিতেছেন**: কার্ল ডেইসেরথ (যুক্তরাষ্ট্র), পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল (জার্মানি) মস্তিষ্কের অনুভূতি-আচরণ নিয়ন্ত্রণে আলোর মাধ্যমে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
- 📌 **অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তি**: আলো ব্যবহার করে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম চালু বা বন্ধ করা যায়।
- 📌 **মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচন**: এই প্রযুক্তি গবেষকদের মস্তিষ্কের স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু সার্কিট চিহ্নিত করতে সাহায্য করছে।
- 📌 **চিকিৎসায় ব্যবহার**: দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের চিকিৎসায়ও এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
- 📌 **পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো**: নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ৯ শতাংশ বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন (প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা) করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মস্তিষ্কের অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে আলোর মাধ্যমে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তিন বিজ্ঞানীকে ২০২৬ সালের চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। নোবেল কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এই উদ্ভাবন মস্তিষ্কের কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কার্ল ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড হিউজেস মেডিকেল ইনস্টিটিউট ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে কাজ করেন। পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অফ বার্লিন ও ইউনিভার্সিটি অফ ভুর্জবুর্গে যুক্ত। তারা একত্রে অপটোজেনেটিকস নামের এই বিপ্লবী প্রযুক্তি তৈরি করেছেন।
গবেষণার শুরুতে পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল এককোষী শৈবালে চ্যানেলরোডপসিন নামের একটি বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কার করেন। নীল আলো পড়লে এই প্রোটিনের মধ্যে একটি পথ খুলে যায়, যার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত আয়ন কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে কোষে বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়। পরে কার্ল ডেইসেরথ এই প্রোটিনের জন্য দায়ী জিন ইঁদুরের স্নায়ুকোষে প্রবেশ করান। নীল আলো ব্যবহার করে তিনি ওই স্নায়ুকোষে সংকেত তৈরি করতে সক্ষম হন। ২০০৫ সালে তিনি এই সাফল্য প্রকাশ করেন। দুই বছর পর জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও আলো দিয়ে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিটি কার্যকর করেন।
বিশ্বজুড়ে গবেষণাগারে এখন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ু সংযোগ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি মস্তিষ্কের কার্যক্রম বোঝার ক্ষেত্রে গবেষণার পদ্ধতিতেই বড় পরিবর্তন এনেছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতে চাইছেন, মস্তিষ্কের কোটি কোটি স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ তৈরি করে। আলো দিয়ে নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
এ বছর মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারের অর্থমূল্য ৯ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সুইডেনের নোবেল ফাউন্ডেশন। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর থেকে ছয়টি ক্যাটেগরির বিজয়ীদের ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রাউন বা ১২ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা) দেওয়া হবে। চিকিৎসায় পুরস্কার ঘোষণার পর ১২ অক্টোবরের মধ্যে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতি—এই ছয় ক্যাটেগরিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
"মস্তিষ্কের অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে আলোর মাধ্যমে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রযুক্তি গবেষকদের মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (হাওয়ার্ড হিউজেস মেডিকেল ইনস্টিটিউট, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি), জার্মানি (হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অফ বার্লিন, ইউনিভার্সিটি অফ ভুর্জবুর্গ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান, জর্জ নাগেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (গবেষক), ৯ (শতাংশ), ১ কোটি ২০ লাখ (সুইডিশ ক্রাউন), ১২ লাখ ২২ হাজার (মার্কিন ডলার), ১৪ কোটি ৬০ লাখ (টাকা), ১২ (অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!