📌 ভোলার লালমোহন উপজেলায় মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হয়ে পড়ায় বিপদগ্রস্ত হচ্ছে কিশোর-তরুণ। পুলিশের কঠোর অভিযানে ১৫ দিনে ১১টি অপারেশনে ১৬ জন মাদক কারবারি আটক ও উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবা। স্থানীয়রা প্রশংসা করছেন পুলিশের তৎপরতা
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার কালরাত্রি ছাড়াই চলছে। শহর থেকে গ্রাম, পাড়া-মহল্লা সবখানে গাঁজা ও ইয়াবা সহজলভ্য হয়ে পড়ায় বিপদগ্রস্ত হচ্ছে কিশোর, তরুণ ও যুবকসহ নানা শ্রেণির মানুষ। তবে পুলিশের কড়াকড়ি অবস্থান মাদক কারবারের বিস্তার রোধে কাজ করছে। বর্তমান ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে থানার এসআই-এএসআই ফোর্স নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ দিনে ১১টি অভিযানে ১৬ জন মাদক কারবারি আটক ও উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবা।
- 📌 ১০টি মাদক স্পটের মধ্যে পৌরশহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড, নয়ানীগ্রাম, পাকার মাথা, লাঙ্গলখালী স্টেডিয়াম এলাকা উল্লেখযোগ্য।
- 📌 নৌপথে মাদক প্রবেশ ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের নোয়াখালী, হাতিয়া ও মনপুরা থেকে; পটুয়াখালী জেলা থেকে ফরাজগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের স্পটে।
- 📌 মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়রা প্রশংসা করছেন পুলিশের তৎপরতা; ওসি বলেছেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
📰 বিস্তারিত
মাদকদ্রব্যের বিস্তার লালমোহন উপজেলায় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর-তরুণদের মধ্যে এর প্রভাব বাড়ছে। পুলিশের তথ্যমতে, চলতি মাসের শুরু থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১টি মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ইয়াবা। এসব ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।
ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।" স্থানীয়রা পুলিশের তৎপরতা প্রশংসা করছেন এবং মনে করছেন, এভাবে অব্যাহত থাকলে মাদকের বিস্তার কমবে।
থানার সাবেক এসআই জানিয়েছেন, লালমোহনে বেশ কয়েকটি মাদকের স্পট রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পৌরশহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড, নয়ানীগ্রাম, ওয়েস্টার্ন পাড়া, পাকার মাথা, পুরাতন লঞ্চঘাট, লাঙ্গলখালী স্টেডিয়াম এলাকা। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্পটগুলোর মধ্যে দেবির চর, রহিমপুর, হরিগঞ্জ, মঙ্গলসিকদার বাজার, জনতা বাজার, কাঠির মাথা, চতলা বাজার, কর্তারহাট, রায়চাঁদ, গজারিয়া, রায়পুরা কান্দি, ফুলবাগিচা, ডাওরি বাজার, চরলক্ষ্মী, নতুন বাজার, ফাতেমাবাদ স্লুইস, জিএম বাজার, গাইমারা বেড়িবাঁধসহ আরও অনেক এলাকা।
মাদক প্রবেশের রুটগুলোও স্পষ্ট। ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নোয়াখালী, হাতিয়া ও মনপুরা থেকে নৌপথে মাদক প্রবেশ করে। পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নৌপথে ফরাজগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের স্পটে মাদক প্রবেশ করে। এছাড়া চরফ্যাশন উপজেলা থেকে গজারিয়া, কর্তারহাট ও লর্ডহার্ডিঞ্জের ফাতেমাবাদ স্লুইসগেট এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে ডাওরি বাজার ও সোনাবাজার এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
"মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; মাদক একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। কিশোর, তরুণ-যুবকদের একটি অংশ এরইমধ্যে মাদকের ভয়াল ছোবলে আক্রান্ত।"
লালমোহনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম জনি মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেছেন, "মাদক বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের ছাড় দেওয়া উচিত নয়। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ স্থান থেকে সতর্ক হয়ে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলার লালমোহন উপজেলা, পৌরশহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড, লাঙ্গলখালী স্টেডিয়াম এলাকা, ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন, পটুয়াখালী জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওসি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার, মো. জসিম জনি, সাবেক এসআই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টি অভিযান, ১৬ জন আটক, ১০টি মাদক স্পট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!