📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

যশোরে এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা: মাদ্রাসা বিরোধের জেরে—জামায়াত বিএনপিকে অভিযুক্ত

যশোরে এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা: মাদ্রাসা বিরোধের জেরে—জামায়াত বিএনপিকে অভিযুক্ত

📷 ছবি: দেশজোগ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 প্রথম আলো যশোর অফিস। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) এমপি গোলাম রসুল (জেলা জামায়াত আমির)-এর নীলগঞ্জ বাসভবনে হামলা। আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ (২০২৩ প্রতিষ্ঠিত কওমি, সাড়ে ৮ শতক)-এর সরু রাস্তা নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ। সোমবার এমপির মেয়ে অনন্যা শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান। মঙ্গলবার ১১টায় এমপি ও মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে বিরোধ—পরে বাসভবনে হামলা। ফটকে তালা, গ্লাস ও সিসিটিভি ভাঙা। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম—বুধবার ৩টায় জেলা প্রশাসকে বৈঠক। জামায়াত SG মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি—বিএনপির মদদ। বিএনপি GS দেলোয়ার হোসেন খোকন অস্বীকার—স্থানীয় মাদ্রাসা বিরোধ। এমপির ভাই তরিকুল ইসলাম। মাদ্রাসা মুফতি কবির হোসাইন।

মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মদদ আছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। গোলাম রসুল যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে বিরোধে জড়ান—যার ফলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাঁদের বাসভবন ভাঙচুর করেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরেই ছিলেন—কেউ বের হননি। প্রধান ফটকে তালা, জানালার গ্লাস ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বুধবার বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে বৈঠক ডেকেছেন।

🔴 মূল পয়েন্ত

  • এমপি: গোলাম রসুল—যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর), জেলা জামায়াতের আমির।
  • স্থান: যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় বাসভবন—যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে প্রফেসর পাড়া।
  • মাদ্রাসা: আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ—২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসা, সাড়ে ৮ শতক জমি, মসজিদসহ।
  • বিরোধ: মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ—৮-১০ ফুট চওড়া গলিপথ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভিড়।
  • সোমবার: এমপির মেয়ে অনন্যা মাদ্রাসার কয়েক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান—পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা।
  • মঙ্গলবার: বেলা ১১টায় এমপি ও মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে অভিভাবকদের সঙ্গে আবার বিরোধ—পরে বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর।
  • ক্ষয়ক্ষতি: প্রধান ফটকে তালা, জানালার গ্লাস ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙা।
  • পুলিশ সুপার: সৈয়দ রফিকুল ইসলাম—সন্ধ্যা ৬টায় ঘটনাস্থলে; বুধবার বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক।
  • জামায়াতের বিবৃতি: সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার—বিএনপির মদদে পরিকল্পিত হামলা; শনাক্ত ও বিচারের দাবি।
  • বিএনপি অস্বীকার: জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন)—রাজনীতির সম্পর্ক নেই, মাদ্রাসা বিরোধের সূত্র ধরে ঘটনা; বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
  • এমপির ভাই: তরিকুল ইসলাম—আতঙ্কে কেউ বের হচ্ছেন না; জামায়াত নেতারা রাতে ভেতরে গিয়ে দেখা করেছেন।
  • মাদ্রাসা প্রধান মুফতি: কবির হোসাইন—এমপির মেয়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে পানি মেরেছেন, মারধর করেছেন।
  • বিক্ষোভ মিছিল: সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিভিল কোর্ট মোড় থেকে দড়াটানা মোড়—জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, প্রচার সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহবুদ্দিন বিশ্বাস, শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইসমাইল হোসেন।

মাদ্রাসা বিরোধ: দীর্ঘদিনের উত্তেজনা

যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে প্রফেসর পাড়া গড়ে উঠেছে। ওই পাড়ায় প্রবেশের জন্য ৮-১০ ফুট চওড়া একটি গলিপথ রয়েছে। সেখানে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাড়ির বিপরীতে ২০২৩ সালে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ নামে একটি কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য—গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদ আছে। ওই মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরোধ চলছিল। সংসদ সদস্যের মেয়ে অনন্যা সোমবার মাদ্রাসার কয়েক শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়। আজ বেলা ১১টার দিকে সংসদ সদস্য ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে অভিভাবকদের সঙ্গে আবার বিরোধে জড়ান। এর পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা এমপির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান।

এমপির ভাই তরিকুল ইসলাম: 'কেউ বের হতে পারছে না'

সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের ভাই তরিকুল ইসলাম বলেছেন, 'আবাসিক এলাকার মধ্যে ছোট্ট একটি জায়গায় একটি কওমি মাদ্রাসা করা হয়েছে। ওই মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথটি অত্যন্ত সরু। সব সময়ই রাস্তাটিতে মাদ্রাসার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে। এটা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি। যে কারণে বিরোধটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আতঙ্কের কারণে ভাইয়ের বাড়ি থেকে কেউ বের হতে পারছে না।'

তরিকুল ইসলাম রাত সোয়া ১০টার দিকে বলেছেন—এই পরিস্থিতিতে বাড়ির কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। জামায়াতের কয়েকজন নেতা রাতে বাড়ির ভেতরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

মাদ্রাসা প্রধান মুফতি কবির হোসাইন: 'এমপির মেয়ে মারধর করেছেন'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার প্রধান মুফতি কবির হোসাইন প্রথম আলোকে বলেছেন, 'সাড়ে ৮ শতক জমির ওপর মসজিদ ও মাদ্রাসা করা হয়েছে। টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে খেলাধুলা করে। অভিভাবকেরাও রাস্তার ওপর কিছু সময় থাকে। এমপি সাহেবের মেয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে পানি মেরেছেন, মারধরও করেছেন। এসব কারণে সবাই ক্ষুব্ধ ছিলেন।'

মুফতি কবির হোসাইনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বিরোধটি দীর্ঘদিনের এবং ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এমপির মেয়ের আচরণ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি—শিক্ষার্থীদের গায়ে পানি মেরেছেন ও মারধর করেছেন—একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। এই ধরনের আচরণ একজন সংসদ সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে অনুচিত—বিশেষত যখন বিরোধটি ইতিমধ্যে পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়েছিল।

জামায়াতের বিবৃতি: মিয়া গোলাম পরওয়ার

সংসদ সদস্যের বাসায় হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে তিনি অভিযোগ করেছেন—বিএনপির নেতা-কর্মীদের মদদে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসায় একদল সন্ত্রাসী ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ও উসকানিদাতাদের অবিলম্বে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ওই বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার আরও বলেছেন, 'দুর্বৃত্তায়ন কিংবা মব করে জামায়াতকে বিতর্কিত করতে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেসব টার্গেটেড অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—তা অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত। ঘটনার সত্যতা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ এবং নাগরিকদের বিভ্রান্ত না করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।'

বিএনপির অস্বীকার: দেলোয়ার হোসেন খোকন

এদিকে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন)। তিনি বলেছেন, 'সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধের সূত্র ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। বরং স্থানীয় নারীরা যখন মহাসড়ক বন্ধ করে বিক্ষোধ করেন—তখন আমাদের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়, মানুষের চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেটা দেখার জন্য। এ ছাড়া আমাদের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলাম—যাতে কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না হয়।'

বিএনপির এই অস্বীকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা অবস্থান। দেলোয়ার হোসেন স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এটি একটি স্থানীয় মাদ্রাসা বিরোধ—বিএনপির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তিনি এও দাবি করেছেন যে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না হতে। এই অবস্থান দেখায় যে বিএনপি এই ঘটনাকে একটি স্থানীয় বিরোধ হিসেবে দেখতে চায়—রাজনৈতিক হামলা হিসেবে নয়।

'সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধের সূত্র ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।'—দেলোয়ার হোসেন (খোকন), সাধারণ সম্পাদক, যশোর জেলা বিএনপি
যাচাই অবস্থা: ✓ যাচাইকৃত (নির্ভরতা স্কোর: 80%)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖